ধর্মীয় আবেগের উপর ভর করে ফের রাজপথ কাঁপাতে প্রস্তুত বিজেপি। রাম নবমীর মতো এবার রথযাত্রাকে ঘিরে রাজ্যে হিন্দু ঐক্যের বার্তা দিতে চায় দল। সেই লক্ষ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছে বিস্তৃত কর্মসূচি। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি আর প্রাচীন সংস্কারকে রাজনৈতিক কৌশলের মোড়কে পরিবেশন করার চেষ্টায় মগ্ন বঙ্গ বিজেপি।
কলকাতার আইসিসিআর-এ সম্প্রতি শতাধিক রথযাত্রা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে হাজির ছিলেন বহু সাধু-সন্তও। বৈঠকে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে এবছর ১৭৫০টিরও বেশি রাম নবমীর শোভাযাত্রা হয়েছে, যেখানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। এবার রথযাত্রাতেও তেমনই ‘শক্তি প্রদর্শনের’ ডাক দিয়েছেন তিনি। এদিন ২০-২২টি রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক সহায়তাও করা হয়।
রথ যেসব রাস্তায় যাবে, সেই সমস্ত পথ ও আশেপাশের এলাকা গেরুয়া পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর পরিকল্পনা, রাম নবমীর মতো রথযাত্রার দিনও মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে গেরুয়া ধ্বজ। হিন্দু ঐক্যের এই প্রতীকী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই শতাধিক রথযাত্রা কমিটির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
রথযাত্রার দিন, অর্থাৎ ২৭ জুন শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে সূত্রের খবর। এরপর তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক এবং মেচেদার রথে যোগ দেবেন। রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও বিজেপি নেতা-কর্মীদের এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের তরফে বলা হচ্ছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে হিন্দু সমাজের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা হবে।
আরও পড়ুনঃ Operation Sindoor : পাকিস্তানের রাফাল ধ্বংসের দাবি মিথ্যে! অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ফরাসি সংস্থার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাম নবমীর সফলতার পরে রথযাত্রাকেও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। যদিও শুভেন্দু জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় উদ্যোগ, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, এটি হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার একটি প্রচেষ্টা। রথযাত্রার এই প্রস্তুতি শুধু ধর্মীয় নয়, আগামী নির্বাচনেরও এক পূর্বাভাস বলে মনে করছেন অনেকেই।





