ভোট এগোচ্ছে, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিহারে ভোটার সমীক্ষার কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, তখন বাংলাতেও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত? শনিবারের প্রশিক্ষণ পর্বে নির্বাচনী আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্ভাবনা। আর এই আবহে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে নতুন করে জোরদার হল রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে— বাংলায় কি তবে শুরু হচ্ছে ভোটার সমীক্ষা?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ইতিমধ্যেই চারটি জেলার এ.ই.আর.ও (AERO), বি.এল.ও (BLO) এবং সুপারভাইজারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এই প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিবিড় সমীক্ষা পদ্ধতিকে। এমন সময়েই বিহারে ৫০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর মন্তব্য, বাংলায় এই সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লক্ষ ছাড়াতে পারে, এবং এই তালিকায় তিনি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেন। ফলত, রাজ্য রাজনীতিতে ফের উসকে উঠেছে ভোটার পরিচয় নিয়ে বিতর্ক।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিমের নাম বাদ যাবে। তবে আমি আশ্বস্ত করছি, সব ভারতীয় হিন্দু-মুসলিম এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে আসা হিন্দুরা কোনও সমস্যায় পড়বেন না। মোদীজি বড় গ্যারান্টর, আমি ছোট গ্যারান্টর।” এও জানান, ১৫ই আগস্টের পর পথে নামবেন এই দাবিকে সামনে রেখে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ নিয়ে শুভেন্দুর আগের সুরের তুলনায় সাম্প্রতিক বক্তব্যে খানিক নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি বদলের পরই এই পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে উগ্র জাতীয়তাবাদের বার্তা আরও জোরদার করার চেষ্টা স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুনঃ অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ে নাকাল দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় জলজটে বিপর্যস্ত জনজীবন
শুভেন্দুর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কারা রোহিঙ্গা? ওরা কি বাংলায় কথা বলে না? মায়ানমার থেকে কেউ এলে, সীমান্তে বিএসএফ কী করছে?” পাশাপাশি তাঁর কটাক্ষ, “বাংলায় দু’জন এলে, বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় ২০০ জন ঢুকছে।” অর্থাৎ, তৃণমূলের বক্তব্য, বিভ্রান্তি ছড়িয়েই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি।





