২০১৬ সালে বাংলায় বিষাক্ত ট্যারেন্টুলা মাকড়সার কামড়ের শিকার হয়েছিলেন বহু মানুষ। ওই সময়ে ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি ট্যারেন্টুলার আক্রমণে আহত হয়েছিলেন। আট থেকে আশি কেউই এই আতঙ্ক থেকে রেহাই পাননি। সেই ঘটনার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বারবার ট্যারেন্টুলা মাকড়সার আক্রমণের খবর সামনে এসেছে।
এইবার ট্যারেন্টুলার হানা দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে। মাঠে কাজ করার সময় নগদা গ্রামের এক ব্যক্তি, যদুনাথ রায়, বিষাক্ত ট্যারেন্টুলার কামড়ে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনা কেশপুরে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আক্রান্ত যদুনাথ রায়ের আত্মীয়রা জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার বিভিন্ন রকম রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যদুনাথের অবস্থা স্থিতিশীল।
ট্যারেন্টুলা এক ধরনের লোমশ মাকড়সা, যার প্রায় ৯০০ রকমের প্রজাতি রয়েছে। সব প্রজাতিই বিষাক্ত নয় এবং সাধারণত প্রাণঘাতীও নয়। পশ্চিমের দেশগুলিতে ট্যারেন্টুলা বাড়িতে পোষার প্রবণতা দেখা যায়। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর তথা জঙ্গলমহল এলাকায় যে ধরনের ট্যারেন্টুলা দেখা গেছে, সেগুলি বিষাক্ত। যদিও প্রাণনাশের আশঙ্কা নেই, তবুও কামড়ের ফলে শরীরের সেই অংশ ফুলে যায় এবং নার্ভাস সিস্টেমে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ট্যারেন্টুলার কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রাকৃতিক বিপদের মুখে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায়। ট্যারেন্টুলার আক্রমণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এদিকে, যদুনাথ রায়ের সুষ্ঠু আরোগ্যের জন্য সবাই প্রার্থনা করছেন। তার দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং কেশপুরের মানুষ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন, এই আশা করছেন স্থানীয়রা।





