প্রতিবন্ধকতাই কী কাঁটা? চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মেলেনি চাকরি, এখন মাদুর বুনেই পেট চালাচ্ছেন দু’পা অকেজো হয়ে যাওয়া গণেশবাবু

The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta: জীবনে টিকে থাকার জন্য কতটাই না লড়াই করতে হয়। শুধুমাত্র খাদ্য, বস্ত্র, ও বাসস্থান থাকলেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, মনের জোরও অপরিহার্য। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-এর যুবক গনেশ চন্দ্র ঘাঁটা তাঁর দু’পা অকেজো হলেও হাতের ভরসায় চলাফেরা করে জীবনের প্রতিটি বাধা অতিক্রম করেছেন (The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta)। ছোটবেলা থেকেই প্রচুর পরিশ্রম করে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

গনেশবাবু তার জীবনের লক্ষ্য পূরণের জন্য বেশ কয়েকবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেছেন, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি বা বেসরকারি কোনও সহায়তা পাননি। তাই বাধ্য হয়ে তিনি মাদুর বোনার কাজ করেন এবং কিছু ছাত্রকে পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার প্রতিদিনের সংগ্রাম যে কারোর মন ছুঁয়ে যাবে (The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta)

শৈশব থেকেই লড়াই করে তিনি বড় হয়েছেন এবং উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। দু’বার চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চাকরি পাননি। কেলেঘাই নদীর তীরে সবং-এর প্রত্যন্ত গ্রাম নঁওগায় গনেশবাবুর বাড়ি। জন্মের পর তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু পাঁচ বছর বয়সে এক অজানা জ্বরে আক্রান্ত হন এবং তারপর থেকেই তাঁর দু’পা অকেজো হয়ে যায় (The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta)। নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে উন্নত চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব ছিল না।

প্রতিকূলতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই গনেশবাবু জীবনযাপন করে চলেছেন। তিনি তেমন কোনও সহায়তা পাননি, কিন্তু মাদুর কাঠি দিয়ে মাদুর বোনার কাজ করে নিজের জীবন চালাচ্ছেন। এছাড়াও, সামান্য কটা টিউশন করে তাঁর দৈনিক আয়ের বন্দোবস্ত করেন। ৩৮ বছর বয়সী গনেশবাবু কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা-মাকে হারিয়েছেন। ফলে তিনি এখন এক অজানা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি (The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta)

তার সংগ্রাম ও অধ্যবসায় প্রতিটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, গনেশ চন্দ্র ঘাঁটা মনের জোরে জীবনের প্রতিটি বাধা অতিক্রম করেছেন এবং তার এই সংগ্রাম সকলের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে (The Inspiring Journey of Ganesh Chandra Ghanta)

RELATED Articles