তৃণমূলের শিক্ষিত সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘দু’পয়সার প্রেস’ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন সম্প্রতি বঙ্গ রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসা বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। মহুয়ার উল্টো অবস্থান নিলেন তিনি।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে অপমান করেছেন মহুয়া, প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছেন। এটা অনভিপ্রেত। এই ধরনের মন্তব্য কুরুচিকর। ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই, বললেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, গত রবিবার নদিয়ার গয়েশপুরে মহুয়া দলীয় কর্মীসভায় সাংবাদিকদের সম্পর্কে একটি মন্তব্য করেন। ওই কর্মীসভায় “দু’পয়সার সাংবাদিক” দের কে ডেকেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের সূত্রপাত। কলকাতা প্রেস ক্লাবের তরফে আশা করা হয়, মহুয়া ‘ক্ষমা’ চাইবেন। সোমবার রাতে অবশ্য মহুয়া টুইট করে জানান, ‘আই অ্যাপোলোজাইজ ফর দ্য মিন হার্টফুল অ্যাকিউরেট থিংস আই সেড (নিম্নমানের দুঃখজনক সঠিক কথা বলার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী)’।
তাঁর মন্তব্যে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে অনড়। সাংগঠনিক বৈঠকে সংবাদমাধ্যম আমন্ত্রিত ছিল না। কিছু খারাপ লোক দলের দুর্নাম করতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ডেকেছিল। কড়া সমালোচনার মুখেও, নিজের ব্যাঙ্গাত্মক ট্যুইটে অবস্থানে অনড় থাকারই ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘সু-বক্তা’ হিসেবে জনপ্রিয় এই তৃণমূল সাংসদ। ফলে মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক থামছে না।
প্রতিবাদ সামনে আসার পর গতকাল এই ট্যুইট করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে, সময় নষ্ট না করে, প্রেস ক্লাবের দেখা উচিত তাদের সদস্যদের মান কীভাবে পড়ছে এবং গোদি মিডিয়ার অবস্থা কতটা করুণ।
এ বিষয়ে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস শূর বলেছেন, এই মন্তব্যের নিন্দা করেছে প্রেস ক্লাব। আরও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে নিন্দা করেছেন। ৭৫ বছর ধরে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা স্বাধীনতার জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করেছেন। মান বাড়ছে না কমছে, সেটা ক্লাবের সদস্যরা বিচার করবেন, সাংবাদিকরা বিচার করবেন।সংবাদকর্মীদের একটা বড় অংশ মহুয়ার ওই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছে। তাঁর এই রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য তাঁকে একাধিক মিডিয়ার তরফে বয়কট করা হয়েছে।






