বিজেপি করার ‘অপরাধ’! সমাজ থেকে বয়কট করে একঘরে করা হল গোটা পরিবারকে, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

বিজেপি কর্মী হওয়ার ‘অপরাধে’ গোটা পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। নানান বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে ওই পরিবারকে। এই নিয়ে থানা ও বিডিও-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি কর্মী নিমাই ঘোষ। বিডিও এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সবংয়ের ৯ নম্বর বলপাই অঞ্চলের শঙ্খডিহা গ্রামে। এই ঘটনার জেরে তোলপাড় গোটা এলাকা।

বিজেপি কর্মী নিমাই ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে তাঁর গোটা পরিবার প্রথম থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। গত বিধানসভা ভোটে সবং এলাকায় তৃণমূল জয়ী হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর অত্যাচার শুরু হয়। আর এই কাজের নেতৃত্ব দেন বলপাই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মানিক মাইতি। এর পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর ধান ভাঙানোর মিল ও মিনি টিউবওয়েল থেকে চাষের জন্য জল নিতে এলাকার চাষিদের বারণ করে রেখেছে বলে অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়, বিজেপি কর্মীর পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, ধান ভাঙানোর মিল চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মিনি টিউবওয়েল থেকে চাষের জমিতে যাঁরা জল নিয়ে চাষ করেন, তাঁদেরও রীতিমত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জল নিলে চাষিদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে গ্রামে থেকেও একঘরে হয়ে রয়েছেন তাঁরা।

ওই বিজেপি কর্মী জানা যে সবং থানায় বারবার তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করে নি পুলিশ। আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা, জানায় ইওই পরিবার। যদিও তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মানিক মাইতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “বয়কট করতো সিপিএম করত। বয়কট ধান কাটা, লুটপাট এসব তৃণমূল করে না। নিমাই ঘোষের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূল দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে”।

অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে সবং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তুহিন শুভ মহন্তি বলেন, “এরকম একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রশাসনের তরফ থেকে আগে মানুষকে বোঝাব। এই ধরনের কাজ অনৈতিক এবং সংবিধান বিরোধী। যারা এই বয়কটের সঙ্গে যুক্ত যদি তার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

RELATED Articles