পঞ্চায়েত নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব আরও ততই প্রকট হয়ে পড়ছে। একে অপরকে আক্রমণ, শানানো, সবই চলছে। এবার বাঁকুড়ায় ‘দিদির সুরক্ষাকবচ’ (Didir Suraksha Kawaj) কর্মসূচিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumdar) হুঁশিয়ারি দিলেন তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)। শুধু তাই-ই নয়, এই কর্মসূচি থেকেই বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারকে (Subhas Sarkar) অশালীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি রেজাউল খাঁ (Rejaul Khan)।
ইন্দপুরের আড়ালডিহি গ্রামে ‘দিদির সুরক্ষাকবচ’ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন তালডাংরার বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী। এদিন এই কর্মসূচির জন্য একটি সভা হয় এলাকায়। এই সভা থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে সরাসরি আক্রমণের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে।
এদিন সুকান্ত মজুমদারকে আক্রমণ করে বিধায়ক বলেন, “সুকান্ত মজুমদার বলে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের লোকেরা দুয়ারে গেলে, তাঁদের বেঁধে রাখতে। সুকান্ত মজুমদার মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন ও বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আপনি জেনে রাখুন তৃণমূল কর্মীরা যেদিন হাত তুলবে সেদিন আপনাদের হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা হবে না। সুকান্তকে সংযত হওয়ার জন্য সতর্ক করা হল। আপনি নিজে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেরিয়ে কর্মীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন। বাংলায় অশান্তি হলে আপনাদের দেখা পাওয়া যাবে না। রাজ্য সরকারকেই তা সামলাতে হবে”।
অরূপ চক্রবর্তীর পর এদিন সভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের ইন্দপুর ব্লকের সভাপতি রেজাউল খাঁ। ওই সভামঞ্চ থেকেই বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারকে নিশানা করেন। সুর সপ্তমে চড়িয়ে রেজাউল খাঁ বলেন, “সুভাষ সরকার বিভিন্ন সভায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আমরা বলছি আপনি যদি কোথাও যান সেখানের জনগণ আপনার প্যান্ট খুলে নেবেন”। তিনি যখন এহেন মন্তব্য করছেন, সেই সময় মঞ্চেই বসেছিলেন বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী।
তৃণমূল বিধায়কের সুকান্ত মজুমদারকে আক্রমণ ও তৃণমূল ব্লক সভাপতির সুভাষ সরকারকে এহেন অশালীন ভাষায় মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানায় গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডল এই প্রসঙ্গে বলেন, “জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আর এক জনপ্রতিনিধি যে ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করছেন সেটা অসাংবিধানিক। বিধায়ক এভাবে বিষয়টি সমর্থন জানাচ্ছেন। এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সংস্কৃতি”।





