রাজ্যে এই প্রথম! রাস্তার অবলা পশু-পাখিদের চিকিৎসার জন্য চালু হল ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স’, অভাবনীয় উদ্যোগ ফালাকাটায়

প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পদ্মশ্রী করিমুল হক শুরু করেছিলেন বাইক অ্যাম্বুলেন্সের। এবার তাঁরই সেই দেখানো পথেই রাস্তার অবলা পশুদের জন্য চালু হল বাইক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম ফালাকাটায় শুরু হল এই পরিষেবা। এই বাইক অ্যাম্বুলেন্স তৈরিতে আর্থিক সাহায্য করেছে ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন, পুরসভা, স্থানীয় কিছু ক্লাব ও পশুপ্রেমীরা। গত রবিবার পশু অধিকার কর্মী মানেকা গান্ধী এই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন।

একটি অ্যাম্বুলেন্সে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা জন্য যা যা থাকে, এই বাইক অ্যাম্বুলেন্সেও সেসবই রয়েছে। একটি বাইকের সঙ্গে বড় ধরনের বাক্স লাগানো হয়েছে। বাক্সটি বানানো হয়েছে মোটা অ্যালুমিনিয়াম এবং ধাতব পাত দিয়ে। এই বাক্সের মধ্যে চাকা লাগানো হয়েছে। লোহার পাত দিয়ে এই বাক্সটিকে বাইকের সঙ্গে জোড়া হয়েছে।

বাক্সের ভেতরে রয়েছে একটি স্ট্রেচার, বেল্ট ও স্যালাইনের ব্যবস্থা। এছাড়াও অক্সিজেনের ব্যবস্থাও থাকছে এই বাইক অ্যাম্বুলেন্সে। এর পাশাপাশি থাকছে পথ পশুদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ঔষধপত্র সহ ভিতরে অন্তত দুটি পশু থাকার ব্যবস্থা। পশুদের পাশাপাশি পাখিদের উদ্ধার, চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকছে একই বাক্সের মধ্যে।

এই বাইক অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে PFA-র ফালাকাটা ইউনিটের সভাপতি শুভদীপ নাগ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার পশু, পাখি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আহত, অসুস্থ পশু পাখিদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে নানান সমস্যার সন্মুখীন হয়েছি। তবে পদ্মশ্রী করিমুল হকের বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দেখার পরেই পথ পশুদের জন্যও এমন অ্যাম্বুল্যান্স চালু করার চিন্তাভাবনা করি। এক বছর ধরে ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন, পুরসভা ও একাধিক সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যে অবশেষে অ্যাম্বুল্যান্স তৈরি করতে পেরেছি। একেবারে বিনামূল্যে পথ পশু,পাখিদের আমরা ২৪ ঘন্টাই শুশ্রূষা করার পরিষেবা দেব”। 

ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, “PFA-র ফালাকাটা ইউনিট পশু,পাখিদের নিয়ে ভালো কাজ করছে। তাই তারা যখন বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের কথা বলেন আমরা আর্থিক সাহায্য করতে রাজি হই। সম্ভবত রাজ্যে পশু,পাখীর চিকিৎসার জন্য বাইক অ্যাম্বুল্যান্স ফালাকাটাতেই প্রথম চালু হচ্ছে। আগামীদিনেও ব্লক প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে”।

PFA ফালাকাটা ইউনিটের তরফে খবর, এই বাইক অ্যাম্বুলেন্স বানাতে খরচ হয়েছে দেড় লক্ষ টাকা। একটি পুরনো বাইক ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। বাইকের সঙ্গে থাকা বাক্স ও অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে থাকা নানান সামগ্রী কিনতে ও পরিকাঠামো তৈরিতে খরচ হয়েছে বাকি টাকা।

ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন, পুরসভা, স্থানীয় ক্লাব ও পশুপ্রেমীরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন এই বাইক অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। এই বাইক রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন, আরটিও, ব্লক-সহ নানান জায়গা থেকে। রাতে যাতে এই বাইক চালাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই কারণে বাইকে নানান আলোর বন্দোবস্তও করা হয়েছে। বাইক চালানোর জন্য সংস্থার কিছু সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

RELATED Articles