ডিম-ভাতের দাম নিয়ে স্থানীয় হোটেলের মালিকের সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়ান তৃণমূল ব্লক সভাপতি। তাদের এই ঝামেলার মধ্যস্থতা করতে যান এক যুবক। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর। মধ্যস্থতা করতে আসা সেই যুবককেই বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল ব্লক সভাপতি ও তাঁর দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়িতে। জানা গিয়েছে, গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে ময়নাগুড়ির ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শিব শঙ্কর দত্ত ময়নাগুড়ির মাধবডাঙা এলাকার এক স্থানীয় হোটেলে গিয়েছিলেন। সেখানে ডিম ভাতের প্রতি প্লেটের দাম ৭০ টাকা করে চান হোটেল মালিক। সেই দাম নিয়েই বচসা বাঁধে দু’পক্ষের মধ্যে। সেই সময় তৃণমূল ও হোটেলের মালিকের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন এক যুবক। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল নেতা ও তাঁর দেহরক্ষী মিলে ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করেন।
এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন ওই যুবক। এরপর আজ, শুক্রবার ওই যুবকের মা ছেলেকে নিয়ে ময়নাগুড়ি থানার যান। শিব শঙ্কর দত্তের বিরুদ্ধে তারা লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান। ওই যুবক জানান, তিনি গতকাল রাতে ওই হোটেলে চা খেতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূল নেতা ও হোটেলের মালিকের মধ্যে ঝামেলা হলে তিনি মধ্যস্থতা করাতে যান। কিন্তু তাঁকেই মারধর করেন তৃণমূল নেতা ও তাঁর দেহরক্ষী। এমনকি তাঁর পকেট থেকেই টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হোটেলের দাম মেটান তৃণমূল নেতা, এমন অভিযোগও করেছেন ওই যুবক।
কী বলছেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি?
এই ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন শিব শঙ্কর দত্ত। তিনি জানান, গতকাল রাতে বিজয়া সম্মিলনীর প্রস্তুতি সেরে স্থানীয় এক হোটেলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে যান তিনি। সেখান ডিম ভাত খাওয়া হয়, হোটেলের মালিক ডিম ভাতের প্রতি প্লেটের দাম চান ৭০ টাকা। তিনি দাম বেশি চেয়েছেন বলে তা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
তৃণমূল নেতার কথায়, সেই সময় সেই ঘটনার ভিডিও করছিলেন এক যুবক। তাঁর দেহরক্ষী ওই যুবকের থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় আর মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করে দেয়। তবে যুবক যে থানার দ্বারস্থ হবেন, তা তিনি জানতেন না। তৃণমূল নেতাও জানান যে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ জানাবেন।






