২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ঘিরে আবারও উত্তেজনা ছড়াল মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি ও সামশেরগঞ্জ এলাকায়। অভিযোগ, ভোটের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং একাধিক নিরাপত্তা যাচাইকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাগরদীঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর থেকেই একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েন বলে দাবি করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে বারবার তল্লাশি করা হয় এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়।
ভোটের দিন সকাল ১০টার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয় বলে অভিযোগ। প্রার্থীর দাবি, বুথে প্রবেশের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয় এবং নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁর মোবাইল ফোনও সাময়িকভাবে নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বুথ এলাকার সিসিটিভি এবং এলসিডি স্ক্রিন সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, বুথের বাইরে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসডিও-র সঙ্গে তাঁর কথোপকথনও সামনে আসে, যেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এরপরই বায়রন বিশ্বাস বিস্ফোরক দাবি করে জানান, তিনি সাগরদীঘি সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল আগেই অনুমান করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “সাগরদীঘিতে আমি হারছি, জঙ্গিপুরে জাকির হারবেন, সামশেরগঞ্জ ও ফারাক্কাতেও তৃণমূল পিছিয়ে পড়ছে”এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, ভোট শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে এমন নিশ্চিত ধারণা তৈরি হল, নাকি মাঠের পরিস্থিতি থেকেই তিনি এমন ইঙ্গিত পাচ্ছেন?
বায়রন বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ ছিল পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাঁকে একাধিকবার “হয়রানি” করা হয়েছে। ভোট দেওয়ার সময় সাধারণ ভোটারের মতো লাইনে দাঁড় করানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশিকে তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের ভোট না দিয়েই বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে জানা যায়। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়িয়েছে।
পরবর্তীতে স্ট্রং রুম এবং সিসিটিভি ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোট গণনার পর ইভিএম সংরক্ষণের স্থানে সিসিটিভি প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ ছিল, যা নিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি টেকনিক্যাল ফল্ট বা জেনারেটর সমস্যার যুক্তি মানতে নারাজ বলে জানান এবং পুরো ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের অনিয়ম ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মুখে চাঞ্চল্যক*র সিদ্ধান্ত! ডায়মন্ড হারবারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ জন সাসপেন্ড, কমিশনের রিপোর্টে উঠে এল পক্ষপাত ও আচরণবিধি ভাঙার গুরুতর অভি*যোগ!
সবশেষে বায়রন বিশ্বাসের রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতিত্ব কাজ করছে এবং বিরোধী দলগুলোর ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এমনকি তিনি কংগ্রেস, সিপিএম ও অন্যান্য দলগুলোর সম্ভাব্য জয়ের কথাও উল্লেখ করেন, তবে তৃণমূলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন উঠছে, প্রথম দফার ভোটেই যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র কোন দিকে মোড় নেবে? রাজনৈতিক মহল এখন সেই দিকেই তাকিয়ে।





