দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মুখে চাঞ্চল্যক*র সিদ্ধান্ত! ডায়মন্ড হারবারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ জন সাসপেন্ড, কমিশনের রিপোর্টে উঠে এল পক্ষপাত ও আচরণবিধি ভাঙার গুরুতর অভি*যোগ!

দ্বিতীয় দফা ভোটের আগেই ফের কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগে এবার ডায়মন্ড হারবার এলাকায় একসঙ্গে পাঁচজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ একাধিক থানার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অফিসাররা। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবার এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নির্বাচনী বিধি অমান্য করে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখার। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণসহ রিপোর্ট কমিশনের হাতে পৌঁছায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একইসঙ্গে এসডিপিও সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ এবং উস্তি থানার আইসি শুভেচ্ছা বাগকেও অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশে কোনও ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

এই ঘটনার পর কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে সাসপেনশন কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। সন্দীপ গড়াইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রস্তুত হওয়া রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও পৌঁছাতে চলেছে।

এছাড়াও ডায়মন্ড হারবার জেলার পুলিশ সুপার ডঃ ঈশানী পালকেও সতর্ক করেছে কমিশন। অভিযোগ, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর অধীনস্থ অফিসারদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে কমিশনের তরফে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও বড় পদক্ষেপ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বৃহস্পতিবার রাতে হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। মুখ্যসচিবকে তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলা হয় এবং তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়। পরপর একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন এবারের ভোটকে সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে কোনও ধরনের শিথিলতা দেখাতে রাজি নয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ আ’ত্মহ’ত্যা নয়, মাফিয়া চক্রের ষড়’যন্ত্র! সুশান্ত ও জিয়া খানের মৃ’ত্যুর জন্য বলিউড মাফিয়ারা দায়ী? তনুশ্রী দত্তের চাঞ্চল্যকর দাবি! সামনে আনলেন কোন অজানা তথ্য?

সব মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবারে পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের সাসপেনশন রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশে বড় ধরনের বার্তা দিয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে প্রশাসনের ভিতরেও বাড়ছে চাপ ও সতর্কতা। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যে আরও কঠোর অবস্থান নেবে, সেই ইঙ্গিতই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles