পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে কম নাটক হয়নি। আদালতের নির্দেশে শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আটকানো যাচ্ছে না অশান্তি। অভিযোগ, অনেক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখাই মিলছে না।
আজ, শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসছে অশান্তির অভিযোগ। এবার তৃণমূলই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায়?
অভিযোগটা কী?
জানা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা ছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিএসএফের আইজি পদমর্যাদার অফিসার ফোর্স কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিই মুর্শিদাবাদে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করতে বলেন। কিন্তু এরপরও ভোটের দিন সাত সকালে মুর্শিদাবাদে খু’ন হলেন তিন জন তৃণমূল কর্মী। ব্যালট বাক্স জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এত ঘটনা ঘটছে, তাহলে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
সমস্ত বুথে নেই কেন্দ্রীয় বাহিনী
রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ৪৪ হাজার। কিন্তু মোট বুথের তুলনায় কম কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। গতকাল, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে রাজ্যে। অর্থাৎ ফোর্সের সংখ্যা ৫৫ হাজার। বিএসএফ কর্তা জানিয়েছিলেন যে বুথ প্রতি চারজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাখতে হবে। কিন্তু তেমনটা হলে ১৩ হাজার কেন্দ্রেই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। বাকি ৩১ হাজার বুথে নেই কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তারা ইতিমধ্যে আবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, জেলায় জেলায় কোন কোন বুথে কত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন জেন সেই তালিকা পাঠায়। এই জেরে চাপের মুখে পড়ে জেলা শাসকদের কাছে তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে চূড়ান্ত অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে।





