শুক্রবার রাতটা যেন অন্য যে কোনও সাধারণ রাতের মতোই ছিল। শহর কলকাতায় তখনও ব্যস্ততা রয়েছে, কেউ অফিস থেকে ফিরছেন, কেউবা রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মত্ত। কিন্তু আচমকাই যেন সব বদলে গেল এক মুহূর্তে। অনুভূত হলো মৃদু কম্পন, যেন মাটির নিচে কিছু একটা নড়েচড়ে উঠল। কেউ ভেবেছিলেন হয়তো ক্লান্তির কারণে মাথা ঘুরছে, কেউ আবার পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমিও টের পেলে?” মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল খবর— “ভূমিকম্প!”
কলকাতা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর— কোথায় কোথায় কাঁপল মাটি?
প্রথমে বিষয়টি অনেকের কাছেই পরিষ্কার ছিল না। বেশ কিছু বহুতল ভবনের বাসিন্দারা জানান, তাঁরা দুলতে থাকা অনুভব করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট আসতে থাকে। ধীরে ধীরে নিশ্চিত হয়, শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, এমনকি বাংলাদেশের কিছু জায়গাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ফোন করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক করেন। আর তখনই জানা যায়, ভূমিকম্পের উৎসস্থল মায়ানমার।
মায়ানমারে একের পর এক ভূমিকম্প, ধসে পড়ল বহু ভবন
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) রিপোর্ট বলছে, মায়ানমারে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.৭, আর দ্বিতীয়টির মাত্রা ৬.৪। প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাগাইং (Sagaing) শহরের ১৬ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে, ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতটাই শক্তিশালী ছিল এই কম্পন যে বিশাল বিশাল বহুতল মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন, অনেকের এখনো কোনও খোঁজ নেই।
প্রভাব পড়ল ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, চিনেও
শুধু মায়ানমারেই নয়, ভূমিকম্পের কম্পন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের দেশেও। দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি জায়গায় কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজারেও অনেকে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়েছে, যেখানে নিখোঁজ ৪৩ জন শ্রমিক। আতঙ্কে থাই সরকার সতর্কতা জারি করেছে।
আরও পড়ুনঃ TMC Councillor Slaps Worker : “চিনিস আমি কে?”—চাটনি না পেয়ে দোকানকর্মীকে চড়, তৃণমূল কাউন্সিলরের কাণ্ডে ক্ষুব্ধ জনতা!
মৃত ২৫, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু, উদ্ধারকাজ চলছে
শেষ পাওয়া খবরে, মায়ানমারে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অনেকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে, তবে ভূমিকম্পের ধাক্কায় পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ভয়াবহ হয় এবং মায়ানমারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে ব্যাপক হবে, তা নিশ্চিত। এখন শুধু অপেক্ষা, আরও কতটা ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে।





