ইতিমধ্যেই, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে ইস্তফা দিয়ে এসেছেন তিনি। এর সঙ্গে ইস্তফাপত্রের একটি কপি রাজ্যপালকেও জমা দিয়েছেন তিনি। ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে রাজীব বলেন, “আমাকে দীর্ঘদিন মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কী কাজ করেছি তা মানুষ বিচার করবে। মুখ্যমন্ত্রীর অবদান আমার জীবনে অনস্বীকার্য।”
তবে রাজীবের এই সিদ্ধান্ত খুব একটা আকস্মিক তা নয়। শুভেন্দু পরবর্তী তৃণমূলে ইতিমধ্যেই মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন লক্ষ্মী রতন শুক্লা, আর এবার রাজীব ব্যানার্জি। আর এতে হাওড়ায় তৃণমূলের দাপট অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাজীবের মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর পর কি বলছেন তাঁর সতীর্থরা? ঠিক ভোটের আগে এমন আঘাতের পর তৃণমূলের কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, রাজীবের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল। ডোমজুড়ে দল ১০,০০০ ভোটে জিতবে, রাজীব কিচ্ছু করতে পারবেন না।
আবার অন্যদিকে রাজীবের পক্ষ নিয়ে বৈশালী ডালমিয়া বলেছেন, রাজীব দক্ষ প্রশাসক ছিলেন, একে একে হাওড়া জেলা ছেড়ে সবাই চলে গেল। তিনি বলেছেন, রাজীবের পদত্যাগই প্রমাণ করে তৃণমূলে এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। রাজীবের মতো দক্ষ প্রশাসক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিলেন, তা অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার, এতে আমরা মর্মাহত।
জগমোহন কন্যা আরও বলেছেন, লক্ষ্মীরতন শুক্ল মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরেও বলেছিলাম, দলে কিছু উইপোকা আছে। আমি অনেক দিন ধরে এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছি। এরা সবাইকে জ্বালাতন করছে, কাজ করতে দিচ্ছে না। অকারণে মানুষকে হেনস্থা করছে, সাধারণের কাছে পরিষেবা পৌঁছতে দিচ্ছে না। যে সব কাউন্সিলর- প্রাক্তন কাউন্সিলররা বেআইনি কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বৈশালীর আক্ষেপ, এই করে হাওড়া জেলাটা নষ্ট হয়ে গেল।
তবে এর ঠিক উল্টো সুরে কথা বলছেন সৌগত রায়। তৃণমূল সাংসদের কথায়, রাজীব সেচমন্ত্রীর পদ ফেরত পেতে চাইছিলেন। উনি যা চেয়েছিলেন তা দেওয়া সম্ভব ছিল না। প্রশাসনিক কোনও কাজ করছিলেন না, মন্ত্রিসভার বৈঠকেও আসছিলেন না। রাজীবের ক্ষোভ প্রশমনে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে তৃণমূল। সৌগত বলেছেন, ওঁকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা হয়েছে, তারপরেও ক্ষোভ প্রশমিত না হলে কী আর করা যাবে! উনি যে পদত্যাগ করবেন তা তো বোঝাই যাচ্ছিল, পুরোপুরি বসে গিয়েছিলেন। দলই হয়তো ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত, তার আগে পদত্যাগ করেছেন ভাল হয়েছে। ফেসবুক লাইভে যা বলেছিলেন তা তো মন্ত্রিসভাতেই বলতে পারতেন। তা না করে ফেসবুক লাইভে মুখ খুলে শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন, তারপরেও দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
ভোটের মুখে এখন বেশ মেজাজে রয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ।





