বীরভূমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনল তৃণমূলই, আবাস যোজনায় অনিয়মের জের

এতদিন শাসক গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার তৃণমূলের সাথে তৃণমূলেরই দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠল বীরভূমে। গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে। সেখানে গ্রামপ্রধানের অনুগামীদের বিশেষ সুবিধা মেলে বলে অভিযোগ করেছেন উপপ্রধান ও তার অনুগামীরা।

দল একটাই তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ দলের মধ্যে দুটি ভাগ প্রধান ও উপপ্রধান গোষ্ঠী। বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত মাঠপলসা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের এক সদস্যের অভিযোগ, ‘আমার পার্টির দু’ভাগ আছে উপপ্রধান এবং প্রধান।’ এলাকায় শোনা যায়, উপপ্রধানের অনুগামী হলে যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর মেলেনা তেমনিই উপপ্রধানের গ্রামে কোনো উন্নয়নমূলক কাজও হয় না।

এই গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় পরে মহিসাডাউরি গ্রাম। যেটি উপপ্রধান অনুগামীদের গ্রাম। এই গ্রামের এক বাসিন্দা হলেন জাহাঙ্গীর। সে উপপ্রধান অনুগামীদের ঘনিষ্ঠ। তাই আবাস যোজনায় বাড়ি বরাদ্দ হলেও সে বাড়ি পাইনি। পেয়ে গেছে অন্য এক জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের বাড়ির লোকদের অভিযোগ যারা বাড়ির নথিপত্র দিতে এসেছিল তারা ২০,০০০ টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে তারা অসমর্থ্য হওয়ায় বাড়িটা আর তাদের পাওয়া হয়নি। তবে শুধু এলাকাবাসীরাই নন, গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ তুলেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যদের একাংশ।

ওই গ্রামের মহিলা প্রতিনিধি রেবিনা বেগমের অভিযোগ, ‘এই দলে মেয়েদের কথা শোনা হয় না। শুধু ছেলেদের কাজই করা হয়। এছাড়া আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি ভাগ একটি উপপ্রধান এবং একটি প্রধান গোষ্ঠী।’

অন্যদিকে আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ মানতে নারাজ গ্রামপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, ‘এইরকম কোনো ব্যাপার নেই। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জাহাঙ্গীরের যে লিস্টে নাম ছিল সেখানে তার বাবার নাম, পরিচয় কিছুই ছিল না। তাই তাকে খুঁজে পেতে অসুবিধা হয়েছে। আর ওই গ্রামেরই আরেক জাহাঙ্গীরের নামে বাড়িটা নথিভুক্ত হয়ে যায়।’ মানুষের পয়সা থেকে মানুষই বঞ্চিত। যাদের জন্য এই যোজনা তারাই তার সুবিধা পাবে না কেন? শুধু কিছু ক্ষমতালোভী মানুষের লোভের শিকার হতে হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামের জাহাঙ্গীরের মতো মানুষদের।

আরও অন্যান্য খবর