সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত দলের মধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ভোটের আগেই শুরু হয়েছে দলবদলের খেলা। ফের সেই একুশের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি ফিরছে। এবার ফের ভাঙন ধরল তৃণমূলের ঘরে। হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা এবার যোগ দিলেন বিজেপিতে।
তৃণমূল নেতা শুধু একা নন, প্রায় ৫০০ জন তৃণমূল কর্মী-সদস্যদের নিয়ে এদিন তিনি যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। ভোটের আগে এক বড় দলবদলের সাক্ষী থাকল বঙ্গ। এদিন এই তৃণমূল নেতার হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন বিজেপি নেতারা। এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কে এই তৃণমূল নেতা?
জগৎবল্লভপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হলেন বিমান চক্রবর্তী। তাঁর ছেলে অনিকেত চক্রবর্তী তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। গতকাল, শনিবার সেই অনিকেত চক্রবর্তীই যোগ দেন বিজেপিতে। তাঁর সঙ্গে প্রায় ৫০০ জন এদিন যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। এদিন জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া হসপিটাল মাঠে বিজেপির সভা ছিল। সেই সভা থেকেই এদিন তৃণমূল নেতা-সহ ৫০০ জনে যোগ দেন বিজেপিতে।

যোগদান প্রসঙ্গে কী বললেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা?
এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে অনিকেত চক্রবর্তী বলেন, দল যেভাবে চাইবে, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। তাঁর কথায়, “ছোট থেকে জগৎবল্লভপুর কেন্দ্র দেখে এসেছি। বাবাকে বিধায়ক দেখেছি, সভাপতি হিসাবে থাকতে দেখেছি। আমিও দীর্ঘদিন দায়িত্ব নিয়ে পদে থেকে কাজ করেছি। শ্রীরামপুর লোকসভার সার্বিক ফল নিয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না। তবে এটুকু বলতে পারি জগৎবল্লভপুরের ১৭টা অঞ্চলে বিজেপি কোনওদিন যে ফল করেনি তা এবার করবে”।
কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?
জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য রঞ্জন কুণ্ডু এই যোগদান প্রসঙ্গে বলেন, “জগৎবল্লভপুরে তৃণমূল একটা অটুট পরিবার। এখানে মাদার, মহিলা, যুব, সব একসঙ্গে রয়েছে। আর যিনি দল ছেড়েছেন বলে শুনছি তাঁকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তিনি জগৎবল্লভপুরের তৃণমূলের এক সময়ের সদস্য ছিলেন। বছর দুই হয়ে গেল উনি রাজনীতি থেকে এক প্রকার বিদায় নিয়েছিলেন। ওনার মনে হয়েছে বিজেপিতে গেলে কিছু পাওয়ার আছে, তাই গিয়েছেন। বিশেষ কিছু এ নিয়ে বলার নেই”।





