ভোটের মুখে আরও একবার বেশ বড় অস্বস্তিতে পড়ল শাসক দল তৃণমূল। ধৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের (Arabul Islam) সম্পর্কে এবার রাজ্যের থেকে তথ্য চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। আরাবুলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তা তালিকাভুক্ত করে আদালতে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
ভাঙড়ে বেশ দাপুটে নেতা বলেই পরিচিত আরাবুল ইসলাম। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খু’ন ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। আপাতত জেলে রয়েছেন আরাবুল। গত ২ এপ্রিল পুলিশের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আরাবুলের পরিবার।
আরাবুলের পরিবারের দাবী, নানান মামলায় ইচ্ছা করে ফাঁসানো হচ্ছে আরাবুলকে। তাঁকে গ্রেফতার করার পর একের পর এক অভিযোগ চাপানো হচ্ছে আরাবুলের উপর। আরাবুলের পরিবার আদালতে আবেদন জানায় যাতে আরাবুলের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা চলছে, তা পুলিশ জানায়। সেই আর্জি মেনেই এবার পুলিশকে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।
আজ, সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন আরাবুলের আইনজীবী। তাঁর দাবী, ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার প্ররোচনাতেই এমন নানান অভিযোগ করা হচ্ছে আরাবুলের বিরুদ্ধে। একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এবার সেই আদালত সেই তথ্যই জানতে চায় যে আসলে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে আরাবুলের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত ভোটের সময় মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় খু’ন হয়েছিলেন আইএসএফ কর্মী মইনুদ্দিন মোল্লা। সেই খু’নের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল আরাবুলের। শুধু তাই নয়, ভাঙড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতার করা হয় আরাবুলকে। আর এর পর থেকেই তাঁকে নিত্যনতুন মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবী ওঠে। এবার সেই সন্দেহের তীর শওকত মোল্লার দিকে।
ভাঙড়ের রাজনীতিতে শওকত মোল্লা ও আরাবুল ইসলামের দ্বন্দ্ব নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে পঞ্চায়েত ভোটের আগে দু’পক্ষের মধ্যে কিছু সমঝোতা লক্ষ্য করা যায়। ভাঙড়ের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পাওারপর পাওয়ার পর আরাবুল ও কাইজারকে নিয়ে বৈঠকও করেন শওকত। মিছিলেও একসঙ্গে দেখা যায় তাদের। তবে লোকসভা ভোটের আগেই আরাবুলের গ্রেফতারির জেরে এবার প্রশ্ন উঠেছে যে ভাঙড়ে কী তাহলে আরাবুলের রাজত্ব শেষ? এবার থেকে কী শওকতের রাজত্বই চলবে সেখানে?





