দু’মাস কেটে গেলেও, এখনও স্তিমিত হয়নি ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে ঘিরে চর্চা। এবার সেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এক পাহাড়ি অঞ্চল— কিরানা হিলস (Kirana Hills)। দাবি উঠেছে, মে মাসে ভারতের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই এলাকাও। আর এমন এক বোমা ফাটালেন বিদেশি উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমন (Damien Symon)। তাঁর বক্তব্য, কিরানা হিলসেও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছিল, যা উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়ছে। ফলত, ফের জল্পনা পাক পরমাণু ঘাঁটিকে ঘিরে।
সম্প্রতি সাইমনের টুইটে উঠে এসেছে গুগল আর্থের একটি চিত্র, যা গত মাসের বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কিরানা হিলসের একাধিক অংশে গড়ে উঠেছে বড় বড় গর্ত বা ক্ষতচিহ্ন, যা ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমার আঘাত বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি আরও একটি ছবি প্রকাশ করেছেন সারগোধা বিমান ঘাঁটির। যা একই এলাকায় অবস্থিত। তাঁর দাবি, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধা জেলার এই কিরানা হিলসকে দেশটির অন্যতম গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, এখানেই পাকিস্তান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণ করে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের হাতে থাকা প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছড়িয়ে রয়েছে গোটা দেশে— যার মধ্যে অন্যতম কিরানা হিল। ফলে, এই এলাকায় ভারতের কোনও হামলা হয়ে থাকলে, তা নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এই দাবি মানতে নারাজ ভারত। এর আগেই ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী সাফ জানিয়েছেন, “কিরানা হিলসে আমরা কোনও রকম হামলা চালাইনি।” সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সেখানে যে পারমাণবিক ঘাঁটি আছে, সেই তথ্য আপনারাই জানালেন। আমাদের কাছে তেমন কোনও তথ্য নেই, এবং আমরা কিরানা হিলসে কোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিইনি।” ইসলামাবাদের তরফেও এ নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ TMC : ধর্মতলার পথে উদ্দাম নাচ, জামা খুলে ফেসবুক লাইভ! শহিদ স্মরণ না কি তামাশা? প্রশ্নে বিদ্ধ যুব তৃণমূল!
ড্যামিয়েন সাইমনের এই নতুন দাবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের এক দফা বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, ভারত হয়তো ইচ্ছাকৃত ভাবে কিরানা হিলসকে টার্গেট করেনি, কিন্তু পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলার ফলেই সেখানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কেউ বা বলছেন, কৌশলগত ভাবে পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেই আঘাত হেনেছে ভারত। সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ যে ভারতের এক সফল অভিযানের থেকেও বেশি কিছু হয়ে উঠেছে— তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধু অপেক্ষা নয়াদিল্লি বা ইসলামাবাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার।





