এর আগেও এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ এসেছে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এবারও তেমনই অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেত্রীর (TMC Leader) বিরুদ্ধে। লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগে ভোটের মুখে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেত্রীকে (TMC Leader)।
কে সেই তৃণমূল নেত্রী?
জানা গিয়েছে, সেই তৃণমূল নেত্রীর (TMC Leader) নাম বর্ণালী দত্ত। পুরুলিয়ার জেলা সম্পাদিকা তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে পুরুলিয়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধের শিশির রায়। তাঁর দাবী, তাঁর স্ত্রীকে আইসিডিএস সেন্টারে চাকরি করিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়েছিলেন এও বর্ণালী দত্ত। এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা নেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন জয়পুর থানার এলাকার বাসিন্দা বিকাশ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও।

অভিযোগকারীর দাবী, তাঁর স্ত্রীর চাকরি শেষ পর্যন্ত হয়নি। সেই কারণে টাকা ফেরত চান তিনি। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী (TMC Leader) আজ দেব কাল দেব করে আর টাকা ফেরতই দিচ্ছিলেন না। সেই কারণে পুরুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। গতকাল, সোমবার ওই তৃণমূল নেত্রীর বাঁধ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। তবে বাকি দুই অভিযুক্তকে এখনও ধরা যায়নি।
জানা গিয়েছে, এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও এমন প্রতারণা করেছেন এই বর্ণালী দত্ত (TMC Leader)। এর আগে বলরামপুর থানার এক গ্রামের যুবক এই বর্ণালী দত্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তাঁকে জুনিতর কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন এই তৃণমূল নেত্রী। আজ, মঙ্গলবার ওই তৃণমূল নেত্রীকে আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “ওই মহিলা এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগ নেই। অপরাধ করে থাকলে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ করবে”।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে তোপ দেগেছে বিজেপি। পুরুলিয়ার বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “এই গ্রেফতারিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও তার পুলিশের ভণ্ডামি ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল। একদিকে যখন ভোটপ্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত বন্ধ রাখতে হবে বলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তৃণমূল নেতারা নাটক করছেন, হাইকোর্টে রাজ্যের মুখ্যসচিব বলছেন, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হলে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেওয়া যাবে না, তখন পুরুলিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূলেরই নেত্রীকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। তার মানে কমিশনের কাছে তৃণমূলের দাবি শুধুমাত্র পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা। কমিশনে তৃণমূল যে অভিযোগ করেছে তার যে কোনও সারবত্তা নেই তা তাদের পুলিশের পদক্ষেপই প্রমাণ করে দিল।“





