সামনেই লোকসভা ভোট। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। দলের মধ্যে স্বচ্ছমুর্তিই এখন বজায় রাখতে চাইছে যে কোনও দলই। কিন্তু তা সত্ত্বেও নানান নেতার নানান কর্মকাণ্ডের জেরে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে দলকে। এবার এক তৃণমূল নেতার কারণে ফের বিতর্কে জড়াল ঘাসফুল শিবির।
ব্যাঙ্কে ঢুকে গুণ্ডাগিরি করতে দেখা গেল এক তৃণমূল নেতাকে। ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে অশ্রাব্য ভাষায় গা’লা’গা’লি এমনকি, তাঁকে খু’ন করার হুমকিও দিতে দেখা গেল ওই তৃণমূল নেতাকে। গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে ব্যাঙ্কে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়েছে এলাকায়।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি শহরের ভাণ্ডানি জলঢাকা রোডে উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্কে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এলাকার এক তৃণমূল নেতা। কিন্তু সময়মত ঋণ শোধ করতে পারেন নি তিনি। সেই কারণে নিয়ম অনুযায়ী ওই নেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয় ব্যাঙ্ক। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাঙ্কে চড়াও হন ওই তৃণমূল নেতা। সঙ্গে ছিল তাঁর দলবল।
ব্যাঙ্কে ঢুকেই হুজ্জুতি শুরু করেন তিনি। ম্যানেজারকে অশ্রাব্য ভাষায় গা’লি’গা’লা’জ করতে থাকেন। কেন তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হল, তা জানতে চান তিনি। দাবী তোলেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্লক করা যাবে না, তাঁকে টাকা তুলতে দিতেই হবে। তাতে রাজি হন নি ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। এরপরই ওই তৃণমূল নেতা হুমকি দেন যে বাড়ি ফেরার পথে ম্যানেজারকে ডাম্পার দিয়ে পিষে খু’ন করা হবে।
তৃণমূল নেতা ও তাঁর দলবলের এহেন কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত হয় ব্যাঙ্কের পরিবেশ। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যাঙ্কের গ্রাহকও অন্যান্য কর্মীরা। ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে থাকেন গ্রাহকরা। তৃণমূল নেতার থেকে এমন হুমকি পাওয়ার পর ভয়ের জেরেই ডিফ্রিজ করে দেওয়া হয় নেতার অ্যাকাউন্টটি।
এই গোটা ঘটনাটি ব্যাঙ্কে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনাটি জানানো হয়েছে ব্যাঙ্কের তরফে, এমনটাই খবর। ব্যাঙ্কের তরফে যদিও এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি থানায়। অভিযোগ দায়ের হলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।





