থানায় ঢুকে পুলিশকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করল না পুলিশকর্তারা

বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে পুলিশ নাকি শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের কোনও নেতার বিরুদ্ধে কনব পদক্ষেপ করে না রাজ্য পুলিশ। এবারেও তেমনই এক ঘটনার নিদর্শন সামনে এল। থানায় ঢুকে পুলিশকেই বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় পুলিশকর্তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ক্যানিং থানা এলাকার রায়বাঘিনী মোড়ে টহল দিচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় এক ব্যক্তির থেকে কালীপুজোর চাঁদা তোলার নামে জুলুমবাজির অভিযোগ ওঠে একজনের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় আটক করা হয় তাকে। থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জয়ন্ত ঘোড়ুই নামের ওই তৃণমূল নেতাকে।  

অভিযোগ, ধৃতকে ছাড়িয়ে আনতে ক্যানিং থানায় যান ক্যানিং ১-এর যুব তৃণমূল সভাপতি অরিত্র বসু। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি। ধৃতকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় থানায় কর্তব্যরত পুলিশকে ওই তৃণমূল নেতা বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খান ক্যানিং থানার আইসি সৌগত ঘোষ। আরও নানান লোকজন থানায় ঢুকে ঝামেলা করে বলে দাবী।

এই ঘটনার খবর পেয়ে থানায় যান এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল। তবে থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে নি পুলিশ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবী করেন আইসি সৌগত ঘোষ ও এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁকে গ্রেফতারের দাবীও তোলেন বিজেপি নেতা।    

আরও পড়ুনঃ আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদারের সাগরেদের বিরুদ্ধেই তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে জড়িত থাকার অভিযোগ, সামনে এল আরও বড় সত্যি!

অন্যদিকে আবার শুভেন্দুর এই দাবীকে মিথ্যা বলে দেগেছেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাস। তাঁর দাবী, “আমি সারাদিন কলকাতায় ছিলাম। অরিত্র ঘোষের নাম বলছে, তাঁর জ্বর, বাড়িতে ঘুমোচ্ছে। আসলে যে ঘটনা বলছেন, আমি জানিই না, এরকম কোনও ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ শিরোনামে থাকবেন বলেই শুভেন্দু অধিকারী মিথ্যা বলছেন”।

RELATED Articles