আর জি কর কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। তিলোত্তমার ন্যায় বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন অনেকেই। জুনিয়র ডাক্তাররা তিলোত্তমার ন্যায় বিচার ও পর্যাপ্ত সুরক্ষার দাবিতে কর্ম বিরতির পথে হেঁটেছিলেন, তারপর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কথায় একবার তারা কর্ম বিরতি তুলে নেন কিন্তু ফের আবারও আর একবার কর্ম বিরতির পথে হাঁটলেন জুনিয়র ডাক্তাররা আর এই নিয়েই জুনিয়র ডাক্তারদের রীতিমত তুলোধনা করলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর জি করে তরুণী চিকিৎসক ডাক্তারকে অমানুষিক নির্যাতন ও হত্যার পর ৫৪ দিন কেটে গেছে। তবুও সাধারণ মানুষ আজও নির্যাতিতা তরুণীকে ভোলেন নি। আজও নির্যাতিতা তরুণী তিলোত্তমার ন্যায় বিচার চেয়ে পথে নামছেন সাধারণ মানুষ। মহালয়ার দিন চিকিৎসকরা মহা মিছিলের ডাক দিলে জাস্টিস ফর আর জি কর ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে সাধারণ মানুষ পথে নামেন। গত মঙ্গলবার ১লা অক্টোবর বিকেল ৫টার সময় কলেজ স্কোয়ার থেকে রবীন্দ্রসদন পর্যন্ত তিলোত্তমার ন্যায় বিচার পেয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। এই মিছিলে জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে যৌনকর্মী, রিকশাচালক, যাদবপুর , প্রেসেডেন্সির প্রাক্তনীরা ও তৃণমূলের প্রাক্তন সংসদও ছিলেন।
বুধবার দিনও জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের ডাকে মহামিছিল ও সমাবেশ চলবে কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা অবধি। এই মিছিলে সাধারণ মানুষ এবং জুনিয়র ডাক্তারদের সাথে থাকবেন সিনিয়র ডাক্তাররাও। তার মধ্যে সোমবার হাইকোর্টের রায়েও অস্বস্তিতে আছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে যখন বিভ্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তখন জুনিয়র ডাক্তারদের কটাক্ষ করেই বক্তব্য করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক্তারদের পূর্ণ কর্ম বিরতির বিষয়টিকে নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাকে শোকস্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না, দুর্গা পুজো হবেই।
ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা এই অভিযোগ এনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ চাপ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে তাদের রাস্তায় আনতে পারবে বলে মনে হয় না। ওরা ঘোমটার আড়ালে রাজনীতি করছে, সিপিএম- ডিএসওর লোক আছে”। কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তারাও বিচার চান কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা দুর্গাপুজো উপলক্ষে রোজগারের আশায় বুক বাঁধেন তাদের রোজগার ছিনিয়ে নিয়ে নয়। বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্য, “বিচার আমরাও চাই, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি অবিচার করে, বিচার হয় না। হাসপাতালে লাইভ স্ট্রিমিং করুক, মানুষ দেখুক ডাক্তাররা কি করছে। দুর্গাপুজো বন্ধ করে রোজগার বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কর্মবিরতি, না কাজ করা, কতটা অধিকারের ব্যাপার, সে নিয়ে প্রশ্ন আছে”।
টলিউডের প্রতিবাদী মুখের মধ্যে সোহিনী সরকারকে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে প্রচারে দেখে ইতিমধ্যেই শাসকদলের নেতারা সমালোচনা শুরু করেছিলেন। ‘টেক্কা’র প্রচারে গিয়ে সমালোচিত হন স্বস্তিকা মুখার্জীও। এইবার টলিউডের প্রতিবাদী সেই তারকাদের উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একইসাথে টলিউডের যে সকল তারকারা প্রতিবাদী আন্দোলনে নেমেছিলেন এবং উৎসবের বিপক্ষে ছিলেন তাদের উদ্দেশ্য করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা বলেছিল দুর্গাপুজা করতে হবে না তারা তো ফিতে কাটতে চলে গেছে। কলকাতায় যারা আছে তারা আনন্দ ফুর্তি করবে না! শোকস্তব্ধ হয়ে থাকবে”? এখন এক্ষেত্রে বারংবার কথা উঠেছে প্রমোশন বা প্রচার করা তারকাদের রোজগারের মধ্যেই করেন। কিন্তু তৃণমূল সমর্থকদের পাল্টা দাবী, তাহলে তারা রোজগার করবেন অথচ পুজোর দিন খেটে খাওয়া মানুষের রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হবে!






