সকালেই দলের প্রতি ক্ষোভ বর্ষণ করে দল ছেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেলা গড়াতেই হঠাৎ ভোলবদল। একেবারে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু মুখপাত্র কামাল হোসেন। সকালে বলেছিলেন, বারবার অবজ্ঞার শিকার হওয়ার কারণেই নাকি দল ছাড়ছেন তিনি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ সুর পাল্টে ফেললেন তৃণমূল নেতা। বললেন, “তৃণমূলেই আছি”।
গতকাল, মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কামাল হোসেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা পড়াশোনার সুযোগ পেলেও চাকরি ক্ষেত্রে সেভাবে সুযোগ সুবিধা মিলছে না তাদের। তাঁর দাবী, এই নিয়ে বারবার দলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও, দল তাঁর কথা শোনে নি। এরপরই তাঁরই অভিযোগ ছিল, তিনি সংখ্যালঘু বলেই তাঁকে এভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
গতকাল কী বলেছিলেন কামাল হোসেন?
গতকাল, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মাদ্রাসা সার্ভিস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কামাল হোসেন। বলেন, “আমিই একমাত্র বাঙালি সংখ্যালঘু মুখপাত্র। কিন্তু আমার কথাই শোনা হচ্ছে না। বিগত এক মাস ধরে আমি অনেক কষ্টে আছি”। তিনি জানান, সংখ্যালঘুদের তরফে চাপ আসছে, তাই তিনি আর তৃণমূলে থাকতে পারছেন না।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল
কিন্তু এই কথা বলার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই আচমকাই সম্পূর্ণ উল্টো বার্তা দেন কামাল হোসেন। এক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জানান, “সংবাদমাধ্যমে আমি কিছু কথা বলেছি, সাময়িক অভিমান আর কষ্ট থেকে বলেছি। মাদ্রাসা সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য ছিল। সেই বিষয়ে দলের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে। তবে সমস্যাটা যেহেতু গভীর, তাই একটু সময় লাগতে পারে”।
এরপর সুর নরম করে তৃণমূল নেতা বলেন, “কিছু কথা বলেছি সংবাদমাধ্যমে। সেগুলো না বললেই ভালো হত। আমি দুঃখিত, দলের শীর্ষনেতাদের প্রতি আমার আস্থা আছে”।
কামাল হোসেন দল ছাড়ার কথা বলার পর এই প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেছিলেন, “বিবেকের দংশন অনেক আগেই হওয়া দরকার ছিল। এতদিন পরে উনি বুঝতে পারছেন তৃণমূলের ভিতরে কী আর বাইরে কী”। কিন্তু হঠাৎ তৃণমূল নেতার এমন ভোলবদলের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।





