গতকাল, সোমবার ২২ জানুয়ারি ছিল অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন। এদিনের পাল্টা সংহতি যাত্রার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বধর্ম সমন্বয়ের জন্য এই যাত্রার ডাক দেন তিনি। তবে তৃণমূলের এই সংহতি যাত্রাতে উড়ল গেরুয়া ধ্বজা। মিছিলে ছিল গেরুয়া রঙের আধিক্য। এমনকি, সেই মিছিলে উঠল ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিও। যা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অন্দরে চর্চার শেষ নেই।
কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
এমন ঘটনা ঘটল রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর সংহতি যাত্রায়। একুশের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জিতে রায়গঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। তবে পরবর্তীতে ফের তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এখনও খাতায়-কলমে তিনি বিজেপির বিধায়ক।
গতকাল, সোমবার তৃণমূলের সংহতি যাত্রা ছিল। কৃষ্ণ কল্যাণীর নেতৃত্বে সেই সংহতি যাত্রা হয় রায়গঞ্জে। তবে সেই মিছিলে দেখা গেল গেরুয়া রঙের ছড়াছড়ি। এক হাতে তৃণমূলের পতাকা ও অন্য হাতে আবার গেরুয়া ধ্বজা নিয়ে হাঁটলেন তৃণমূল নেতা।
কী বক্তব্য কৃষ্ণ কল্যাণীর?
এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা বলেন, “রাম আমার হৃদয়ের মধ্যে আছে। আর দলের কর্মসূচি ছিল সংহতি যাত্রা। আমার এক হাতে দলের পতাকা অন্য হাতে রামের পতাকা নিয়ে সে বার্তাই দিলাম। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সবসময় বলে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা রাম নবমী পালন করি, ঈদ পালন করি, দুর্গাপুজোও পালন করি”।
এই প্রসঙ্গে আবার জেলার তৃণমূল সহসভাপতি অরিন্দম সরকার বলেন, “বিধায়কের অবস্থান বিধায়কই বলতে পারবেন। তাঁর অবস্থানের সঙ্গে আমাদের রাজ্য কমিটির স্ট্যান্ড বোধহয় মিলছে না। মনে হচ্ছে বিধায়ক রাজ্যের অবস্থানকে টপকে নিজের কোনও অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন”।
কী প্রতিক্রিয়া গেরুয়া শিবিরের?
এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে দেরি করে নি গেরুয়া শিবির। বিজেপির মতে, তৃণমূল নেতার বোধোদয় হয়েছে। বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “শুভ বোধোদয় হয়েছে। ভারতবর্ষে রামচন্দ্র ছাড়া কিছু হতে পারে না এটাই সত্যি”।
বলে রাখি, শুধুমাত্র রায়গঞ্জই নয়, এমন চিত্র মালদহ-সহ রাজ্যের অনেক প্রান্তেই দেখা গিয়েছে। মালদহে তৃণমূল কর্মীরা গেরুয়া পতাকা হাতে গেরুয়া পোশাক পরে মিছিল করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলেছেন। আবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় জেলা পরিবহণ দফতরের ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রিয়াংশু পাণ্ডে ও তাঁর কাউন্সিলর স্ত্রী ১৩০ ফুটের একটি রাম মূর্তি বানিয়েছেন। এমন নানান ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে গতকাল রাজ্যে।





