পেশায় ক্ষেতমজুর, থাকেন টালির ছাউনি দেওয়া ঘরে, শত দুর্নীতি থেকে দূরে সততাকে সঙ্গী করে নিজের কাজে অনড় তৃণমূল নেত্রী

একের পর এক দুর্নীতিতে রাজ্য সরকার এখন বিধ্বস্ত। শাসক দলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে নানান দুর্নীতিতে। গ্রেফতার হয়েছেন শাসক দলের দুই প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল। একদিকে যখন একাধিক দুর্নীতিতে রাজ্য সরকারের একাধিক নেতা-মন্ত্রী জর্জরিত, সেই সময় দাঁড়িয়ে সকল দুর্নীতিকে পিছনে ফেলে সততার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার মোলডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রানি মুর্মু। যে সময় তৃণমূলের নানান পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে দুর্নীতির সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই এই তৃণমূল নেত্রীর। ভোরের আলো ফুটলেই তাঁকে দেখা যায় কোদাল হাতে নিয়ে ক্ষেতে যেতে। ক্ষেতমজুরের কাজ করেই দিনের পর দিন জীবন অতিবাহিত করে চলেছেন তিনি।

শুধুমাত্র ক্ষেতের কাজই নয়, ক্ষেতের কাজ সামলে নিজের সংসারের দায়িত্বেও অনড় থাকেন তিনি। সংসারের কাজ সামলে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি যান পঞ্চায়েত অফিসে। সেখানে গ্রামবাসীদের সমস্ত অভিযোগ-অনুযোগ শোনেন তিনি। সকলের ভালোমন্দের খেয়াল রাখা এই নেত্রী নিজেই থাকেন খড়ের চাল ও টালির ছাউনি দেওয়া একটি ছোট্ট ঘরে।

বাংলায় যখন দুর্নীতির চিত্র ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।, সেই সময় রানি মুর্মুর এই কঠোর পরিশ্রম সকলের নজর কেড়েছে বৈ কী! সকল দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের কাছে তিনি সততার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই মুহূর্তে।

এক সংবাদমাধ্যমের তরফে তৃণমূলের এই উপপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যদি ঘরটা পাকা হত, তবে অবস্থার একটু উন্নতি হতো। তবে বর্তমানে আমার উদ্দেশ্য, গ্রামবাসীর সকলের বাড়ি পাকা করে তোলা। তারপর আমি নিজের বাড়ির দিকে খেয়াল দেব”।

গ্রামবাসীরাও রানি মুর্মুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক স্থানীয় বলেন, “কোথায় কি দুর্নীতি হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে খুব একটা জানিনা। তবে গ্রামের উপপ্রধান আমাদের ঘরের মানুষ। উনি যেভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন, তা দৃষ্টান্ত”।

RELATED Articles