আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন। অনশন কর্মসূচিও করেছেন। তাদের এই আন্দোলনকে নানান সময় নানানভাবে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতারা। কখনও কুণাল ঘোষ তো কখনও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেছেন যে জুনিয়র চিকিৎসকরা আন্দোলনের নামে টাকা তুলছেন। এবার সেই কটাক্ষের তালিকায় যুক্ত হলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
হাড়োয়ায় তৃণমূলের এক বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠান থেকেই জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “ডাক্তারদের যে আন্দোলনটা হল, সেখানে বিজেপি বিশেষ জায়গা পায়নি। আন্দোলনটা দখল করে নিয়েছিল নকশাল আর সিপিএমরা”।
এমনকি, আন্দোলন চলাকালীন এক যুবকের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। বলেন, “যে কারণে একজন মা, যাঁর ছেলের দুটো পা কাটা গিয়েছে, সেই মা ডাক্তারবাবুর পা ধরে বলেছিলেন, ছেলেকে বাঁচান। মায়ের চোখের সামনে ছেলেটা মারা গেল। ডাক্তারবাবু চিকিৎসা করলেন না। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, বড় আন্দোলনে দু-একজন মারা যান। ডাক্তার হয় কী করে”?
আন্দোলনকে কটাক্ষ করে শোভনদেবের মন্তব্য, “রাজ্য় সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ডাক্তার তৈরি করতে হয়। আজকে তারা সরকারে কাজ না করে আন্দোলন করছে। সে কী আন্দোলন রে বাবা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। এখানে দামি দামি খাবার চলে আসছে। কত কোটি টাকা তুলেছে খাবারের জন্য। ১১ টা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে খাবারের জন্য। বলছে আন্দোলন হচ্ছে, আসলে আন্দোলনের নামে কী হচ্ছে? কীসের আন্দোলন? হাসপাতালে গেলে চারদিকে দালাল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বড় বড় ডাক্তারের দালাল। আসলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে”।
বলে রাখি, আর জি করের নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকরা এই মুহূর্তে দ্বিধাবিভক্ত। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ আবার গঠন করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের তরফে দাবী করা হয়েছে, নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের নামে অনিকেত মাহাতো, কিঞ্জল নন্দরা ৪.৭৫ কোটি টাকা তুলেছেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, থানার সামনে ধর্নায় বসলেন খোদ মহিলা সাব-ইনস্পেক্টর, কী অভিযোগ তাঁর?
অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতারা জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের এই টাকার উৎস জানতে চেয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “এরা তো ক্ষমতায় এলে দেশ বেচে দেবে”। এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।





