আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই মা-বোনদের ছবি বিকৃত করে দেওয়ালে টাঙাব’, মুখ্যমন্ত্রীর ‘ফোঁস’ পরামর্শ মেনে কুৎসিত মন্তব্য তৃণমূল নেতার

আর জি কর কাণ্ডে (R G Kar incident) আস্তে আস্তে ভয়াবহ হয়ে উঠছে রাজ্য ও রাজনীতির  পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) গত বুধবার প্রকাশ্য মঞ্চে বলেন, ফোঁস করতে হবে। মাননীয়া বলেন, আগামী দিন আপনাদের কাজ হচ্ছে চক্রান্তকারীদের মুখোশ খুলে দিয়ে ফোঁস করতে শিখুন। মাননীয়ার এই বক্তব্যের পর থেকেই জেলা স্তরের তৃণমূলের নানা নেতাই হুমকি দিতে শুরু করেছেন।

আর জি কর নিয়ে ন্যায় বিচারের দাবীতে যখন উত্তাল হয়ে উঠেছে মহানগরী, মেয়েরা যখন রাত দখল করতে শুরু করেছে, তখন জেলা স্তরের এক শাসক নেতা মা-বোনেদের সম্মান নিয়েই হুমকি দিলেন। অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী অতীশ সরকার বললেন, প্রতিবাদী মহিলাদের ছবি বিকৃত করে দেওয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সমাজ মাধ্যমে।

অতীশ সরকার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তাকে হুশিয়ার করেই এই হুমকি দিয়েছেন। তার কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোঁস করতে বলেছেন সাবধান হয়ে যান আমরা পাড়ায় পাড়ায় ফোঁস করলে বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন তো? তৃণমূল নেতার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী পক্ষ থেকেও এসেছে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা।

শনিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নিদানের পরেই তৃণমূলের গুণধর লুম্পেন বাহিনীর ভাষণ শুনুন! অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই নাকি প্রতিবাদীদের বাড়ির মা বোনদের বিকৃত ছবি দেওয়ালে টাঙিয়ে দেবে বলছে অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার কাউন্সিলরের স্বামী।”

একই সাথে পাল্টা আক্রমণ করে তিনি লেখেন, “রাজ্যের মহিলাদের সম্পর্কে এদের বক্তব্যে যেভাবে অতি নিম্ন রুচি কুশিক্ষার পরিচয় উঠে আসছে সেটা রাজ্যের জন্য শুধু নয় সমাজের পক্ষেও বিপজ্জনক। বাংলার মাতৃ শক্তি এর ঠিক জবাব দেবেন। এ রাজ্য থেকে তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত”।

আরও পড়ুনঃ বিনীত গোয়েলের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবীতে প্রতীকী মেরুদণ্ড ও লাল গোলাপ নিয়ে লালবাজার অভিযান জুনিয়র চিকিৎসকদের

এরপরেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করে বলেন,“ ‘ফোঁস করা’ নিয়ে যে শব্দবন্ধ গতকাল আমি বক্তৃতায় বলেছি, সেটি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের উক্তি থেকে। প্রয়োজনে কখনও কখনও যে গলা চড়াতে হয়, সেই যুগপুরুষই তা বলেছিলেন। যখন অপরাধ হয়, তখন প্রতিবাদী কণ্ঠকে সোচ্চার হতে হয়। সেই আঙ্গিকে মহাপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী অনুসরণ করেই আমি এই কথা বলেছি।”

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles