চারতলা বাড়ি রয়েছে কেশবপুরের উপপ্রধান জাহাঙ্গির শেখের। কিন্তু তা সত্ত্বেও আবাস যোজনার তালিকায় নাম রয়েছে উপপ্রধানের স্ত্রী, প্রয়াত বাবা সহ ভাই আলমগীর শেখ ও আজমগীর শেখের। এই ঘটনায় বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে ওই এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকার। ওই এলাকায় যাদের মাটির ঘর, তাদের আবাস যোজনায় নাম নেই। আর অন্যদিকে অট্টালিকার মালিক হয়ে নাম উঠেছে তালিকায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূলেরই স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা।
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, তারা গরীব হলেও তাদের নাম নেই আবাস যোজনার তালিকায়। তাদের মধ্যে কারোর মাটির বাড়ি, তো আবার কারোর বাড়ির প্রায় ভগ্নপ্রায় অবস্থা। গরীব হয়েও গ্রামের মানুষ আবাস যোজনার টাকা পাচ্ছেন না। আর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাহাঙ্গির শেখ যার প্রাসাদপ্রম বাড়ি রয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে আবাস যোজনার তালিকায়।
এই বিষয়ে উপপ্রধান জাহাঙ্গির শেখের সঙ্গে এক সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “আমি দলের কাজে ব্যস্ত থাকি। অফিসে খুব একটা যাই না। কে বা কারা তালিকা তৈরি করেছে, আমার জানা নেই। বিষয়টি নজরে আসা মাত্র নাম বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছি”।
এই দুর্নীতি নিয়ে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি খাঁ। তিনি বলেন, “আমাকে কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে আমাকে। জাহাঙ্গির শেখ নিজের ইচ্ছে মতো সব করছেন। এখানে আমার কোনও ভূমিকাই নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গোটাটা জানিয়েছি”।
বলে রাখি, গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশাসনিক কর্তাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, “যার চার তলা বাড়ি রয়েছে, সে বাংলার বাড়ি পেয়ে গেল, আর যার কিছু নেই, সে পেল না। এটা চলবে না”। কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন ঘটনা সামনে আসায় দলকে বেশ অস্বস্তিতেই পড়তে হয়েছে।





