‘আমি তো আসতেই চাই নি, দিদি আমাকে জোর করে টেনে রাজনীতিতে এনেছেন, কিন্তু আর না’, তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন চিরঞ্জিত

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। আর এমন আবহে এবার রাজনীতি ছাড়ার কথা জানালেন তৃণমূলের তিনবারের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। তাঁর কথায়, তিনি বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেহেন যে তিনি রাজনীতির ময়দানে থাকতে চান না, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাক ছাড়তে রাজি হন নি দলনেত্রী। ভোটের মুখে এবার এক বিস্ফোরক দাবীও করলেন বিধায়ক।

এর আগে বারাসাতেই এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “যতবার আমি হাতজোড় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলি, আমাকে ছেড়ে দিন, এটা আমার কাজ নয়, আমি এই যুদ্ধের সেপাই নই। কিন্তু কেন জানি না, উনি আমাকে ছাড়েন না। আর আপনারাও আমার কাজ বাড়িয়ে দেন। আমি চাই না, এখানে থাকতে। আর আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জিতিয়েই দেন। কিন্তু এবার আর নয়। আমি আমেরিকায় মেয়ের কাছে গিয়ে বসে থাকব। আসবই না এখানে”।

আর এবার সেই একই কথা শোনা গেল তাঁর মুখে। শুধু তাই-ই নয়, নিজের রাজনীতিতে আসা নিয়েও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। তাঁর কথায়, তিনি কোনওদিনই রাজনীতিতে আসতে চান নি। তাঁকে একপ্রকারর জোর করে এই ময়দানে টেনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতিতে টিকিটও কাটি নি, ট্রেন বা প্লেনেও চাপিনি। আমাকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে”।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে জোর করে রাজনীতিতে এনেছেন বলে দাবী বারাসাতের বিধায়কের। তাঁর কথায়, “আমি তো আসতেই চাই নি। আমি বলেছিলাম আমি রাজনীতির কিছু বুঝি না, আমি যোগ দেব না। কিন্তু উনি জোর করে টেনে আমাকে এনেছেন। আর বারাসাতের লোকজনও আমাকে খুব ভালোবাসে তাই আমি ২০-২৫ হাজার ভোটে জিতে যাই প্রতিবার”।

তবে আর নয়, এবার ইতি টানার কথা বললেন চিরঞ্জিত (Chiranjit Chakraborty)। তিনি বলেন, “কিন্তু এবার আমি আর থাকতে চাই না। ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে। আমি এবার ছাড়বই”।

প্রসঙ্গত, বারাসাতের বিধায়ক হিসেবে হ্যাট্রিক করেছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। ২০১১ সালে বাম জমানার অবসানের সময় প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। তবে বর্তমানে তাঁর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ দলনেত্রী। কিছুদিন আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে চিরঞ্জিতের স্টেডিয়ামের দাবীতে বেশ ধমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিমানেই তিনি দল ছাড়তে চাইছেন কী না, তা অবশ্য জানা নেই।

আরও অন্যান্য খবর