বিগত কয়েকদিন ধরেই তিনি যে হারে দলকে নিয়ে নানান মন্তব্য করছিলেন, তাতে যে তৃণমূল বেশ অস্বস্তিতে পড়ছিল, তা বলাই বাহুল্য। অনেকে অনুমানই করেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে দল। হলও তাই। দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এবার শোকজ করা হল ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।
গত সোমবার ছিল তৃণমূলের কর্মসমিতির বৈঠক। এদিন দলের শৃঙ্খলারক্ষার স্বার্থে তিনটি আলাদা কমিটি গড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদ, বিধানসভা ও দলীয় স্তরে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেদিনই রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই তিন কমিটির তরফে কোনও নেতাকে তিনবারের বেশি যদি শোকজ করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে সাসপেন্ড করা হবে।
দলের নেতাদের মুখ লাগাম টানতেই এই কড়া ঘোষণা করা হয় দলনেত্রীর তরফে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যায় হুমায়ুন কবীর স্বমেজাজেই আলপটকা মন্তব্য করে গিয়েছেন। কখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ব্যাট ধরে তিনি বলেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি কোনও যোগ্যতা নেই? কেন কেউ অভিষেককে কোণঠাসা করবে? কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে, আর সেটা কি আমরা মেনে নেব? বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর চারপাশে যাঁরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আগামী দিনে অন্ধকার হবে”।
আবার কখনও দলের নেতৃত্বের একাংশকে শানিয়ে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে, “অন্যায় হলে আমাকে তো বলতেই হবে। আমি কাউকে ভয় করি না”। এমনকি ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেও তিনি বলেন, “প্রভাবশালীরা আমাকে মার্ডার করতে পারে”।
লাগাতার তাঁর এহেন মন্তব্যের জেরেই এবার তাঁকে শোকজ করল তৃণমূল। এই শোকজের ঘটনায় হুমায়ুন জানান, তিনি শুনেছেন শোকজের কথা কিন্তু চিঠি পান নি কোনও। তাঁর কথায়, “দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অধিকার রয়েছে, আমাকে সাসপেন্ড করার। আমি শৃঙ্খলা ভেঙেছি কিনা, চিঠি পেলে তখন জানাব। এখনই অত ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে মনি করি না”।





