গতকালের পর ফের আজকেও উত্তেজনা বিধানসভায়। বিজেপির মহিলা বিধায়কের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ। আলোচনার মাঝেই এমন ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এবার বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপির বিধায়করা।
আজ, বুধবার বিধানসভায় রাজ্যে নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন ইস্যুতে মুলতুবি প্রতাব জমা করেন বিজেপির মহিলা বিধায়করা। কিন্তু সেই সময় আলোচনার মধ্যেই বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের মাইক বন্ধ ক্রেদেওা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা। প্ল্যাকার্ড হাতে বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখান তারা।
এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আর জি করের ঘটনার পরেও আমাদের রাজ্যে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছেই। শারীরিক অত্যাচার ও খুন ক্রমবর্ধমান। এর বিরুদ্ধে আমাদের মহিলা বিধায়করা এদিন বিধানসভায় একটি মুলতুবি প্রস্তাব জমা করেন। এই মুলতুবি প্রস্তাবের ভাষ্যে এডিটেড পার্ট তাঁদেরকে পড়তে দেওয়া হয়। কিন্তু আলোচনার সুযোগ রাখা হয় না। আমাদের বিধায়ক তাপসী মণ্ডল, শিখা চট্টোপাধ্যায়, মালতি রাভা, চন্দনা বাউড়ি সবাই মিলে যখন প্রতিবাদ করেন, তখন তাপসী মণ্ডলের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়”।
তাঁর অভিযোগ, “আসলে তাপসী মণ্ডলের যে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেটা আসলে পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য মহিলা ও শিশুদের কথা বলার মাইক ছিল। তাঁদেরই কন্ঠরুদ্ধ করা হয়েছে”।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরই বলেছিলেন, বিরোধীদের মুখে সেলোটেপ মেরে দিতে। এদিন স্পিকার সেটাই করেছেন। এটা তো মুখ্যমন্ত্রীর আচরণেরই ভাষ্য”।
তবে বিধানসভা সূত্রে আবার খবর, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এডিটেড ভার্সনই পড়তে হবে আলোচনার সময়। কিন্তু তাপসী মণ্ডল সেই ভার্সনের বাইরের অংশও পড়েন। সেই কারণেই তা রেকর্ড না করার নির্দেশ দেন তিনি। তা সত্ত্বেও তাপসী মণ্ডল বলতে থাকলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গতকাল, মঙ্গলবারও বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল বিধানসভা। বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় বিধানসভায় এদিন। বিধানসভার বাইরে মিছিলও করেন বিজেপি বিধায়করা। আগামী দিনে কলকাতার রাস্তায় নেমে কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ ফের বিজেপি বিধায়কদের ক্ষোভে উত্তাল বিধানসভা।





