২৮ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও সিবিআই তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে। দফায় দফায় চলছে জেরাও। জানা গিয়েছে, এই জেরার মাঝেই মাঝেমধ্যেই তদন্তকারীদের সামনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন বিধায়ক।
সূত্রের খবর, গতকাল, শুক্রবার রাতে কোনওরকমে একটা রুটি আর একটু তরকারি খেয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। সকালে এক কাপ চা আর বিস্কুট। সেভাবে আর সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। কিন্তু বারবার কেঁদে উঠছেন তিনি।
এরই মধ্যে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে লোক বাড়িয়েছে সিবিআই। আজ সকালেই সিবিআইয়ের আরও একটি টিম গিয়েছিল তাঁর বাড়িতে। এর জেরে বেশ চাপে তৃণমূল বিধায়ক। এরই মাঝে বেলার দিকে আবার পাঁচিল টপকে পালানোরও চেষ্টা করেন জীবনকৃষ্ণ। যদিও লাভ হয়নি। তাঁর বাড়ির পেছনের বাগান থেকে ৬টি ব্যাগ উদ্ধার করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেই ব্যাগে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গতকাল, শুক্রবার তল্লাশি চালানোর সময় প্রথমেই সিবিআই আধিকারিকরা পান জীবনকৃষ্ণের দু’টি ফোন ও পেন ড্রাইভ। কিন্তু হঠাৎই অচকিতে তদন্তকারীদের হাত থেকে ফোনদুটি ও পেন ড্রাইভ নিয়ে বাড়ির পিছনের পুকুরে ফেলে দেন তৃণমূল বিধায়ক।
রাত থেকেই বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ির পিছন দিকের পুকুরে পাম্পের সাহায্যে জল ছেঁচে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। ছুঁড়ে ফেলা দেওয়া মোবাইলের খোঁজে তদন্তকারীরা। পেনড্রাইভ, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের খোঁজও চলছে। বর্তমানে বিধায়কের বাড়ি, পুকুর, গোডাউনে তল্লাশি চালাচ্ছেন ১১ জন সিবিআই আধিকারিক। ওই ফোন ও পেন ড্রাইভে লুকিয়ে রয়েছে অনেক তথ্য, এমনটাই অনুমান সিবিআইয়ের। তবে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি সেই ফোন। মানসিক চাপের মধ্যে পড়েই হয়ত বারবার কেঁদে উঠছেন জীবনকৃষ্ণ।
বলে রাখি, এর আগে গত বছর ২২শে জুলাই সকাল সাড়ে ৯টা নাগাস পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঢুকেছিল ইডি। এরপর পরদিন ২৩শে জুলাই ভোরের দিকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এবার জীবনকৃষ্ণের সঙ্গেও তেমনটাই ঘটবে কী না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।





