আর একমাস বাকি লোকসভা নির্বাচনের। সমস্ত দলের মধ্যেই এখন চূড়ান্ত উত্তেজনা। জায়গায় চলছে প্রচার। দলের নেতা-কর্মীরা ভোট চাইছেন আমজনতার কাছে। ভোটের আগে এই দৃশ্যই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এর মধ্যে তৃণমূল বিধায়ক বলে ফেললেন এক কথা যা তাঁর দলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিল। তাঁর কথায়, দলের কর্মীরা এখন ভোট চাইতে লজ্জা পাচ্ছেন।
ঠিক কী বলেছেন তৃণমূল বিধায়ক?
গত শনিবার অশোকনগর বিধানসভার রাজিবপুর বিরা পঞ্চায়েতের অনন্তপাড়া এলাকায় তৃণমূলের একটি দলীয় সভা ছিল। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অশোকনগরের বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগণা জেলা সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী। সেখানেই কিছু বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন তিনি। সেই ভিডিও এখন ভাইরাল (এও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭)।
এদিন এই সভা থেকে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “দলের অনেক কর্মী রয়েছেন, প্রকাশ্যে যাঁরা নিজেদের তৃণমূল কর্মী পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করেন”।
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “ট্রেনে বাদাম বিক্রি করতে উঠে যদি আস্তে আস্তে বাদাম বিক্রি করে, না চিৎকার করে, তাহলে যেমন বাদাম বিক্রি হয় না ঠিক মানুষের কাছে গিয়েও আস্তে আস্তে ওইভাবে বললে বলা হয় না। প্রতিবেশীদের কাছে যান, বার বার বলুন তৃণমূলকে ভোট দিন”।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন বণ্টন দুর্নীতি, নানান মামলায় এই মুহূর্তে জেলবন্দি একাধিক তৃণমূল নেতা। এর উপর সাম্প্রতিককালে ঘটা সন্দেশখালি কাণ্ড, সব মিলিয়ে এমনিতেই বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে তৃণমূল। আর এর উপর আবার তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্য যে দলের অস্বস্তি আরও বাড়াবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কী প্রতিক্রিয়া দিল বিজেপি?
তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তোপ দাগতে দেরি করল না গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র এই প্রসঙ্গে বললেন, “নারায়ণবাবু যে কথাটা বলেছেন, তা রাজ্যের মানুষের মনের কথা। তিনি কর্মিসভায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তৃণমূল দলটা করলেও অনেকে পরিচয় দিতে লজ্জা পান। এর থেকে প্রমাণিত হয়, রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তৃণমূলের নেতারা রাস্তায় বেরোলে সাধারণ মানুষ ‘চোর’ বলে দেগে দিচ্ছেন”।
সাফাই তৃণমূল বিধায়কের
তবে নারায়ণ গোস্বামী পরবর্তীতে বলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে তাঁর বক্তব্য, “বিরোধীরা তৃণমূলের কোনও কথার সঙ্গেই সহমত হন না। তাঁরা আমার কথার মধ্যে আরও কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এতে লাভ হবে না। এই বাংলা মমতাময় ছিল, থাকবে”।






