আর জি কর কাণ্ডে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন, এবার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, অস্বস্তিতে শাসক শিবির

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য-সহ দেশ। দিকে দিকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সকলের একটাই দাবী দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই। শাসক শিবিরের উপর বেড়েছে চাপ। এরই মধ্যে এবার তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।

আর জি কর কাণ্ডে প্রথম থেকেই রব হয়েছিলেন তিনি। ১৪ আগস্ট প্রথম রাত দখলের কর্মসূচিতে তিনিও যোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এমনকি, তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য সরকারের পদক্ষেপে যে তিনি একেবারেই খুশি নন, তাও জানিয়েছিলেন। সিবিআইকে চিঠি দিয়ে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে জেরা করার আর্জিও জানান। এর জন্য দলের বিরাগভাজনও হয়েছিলেন তিনি।

সন্দীপ ঘোষের গ্রেফতারির পর বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্টও শেয়ার করেন সুখেন্দুশেখর রায়। যা নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়। বিনীত গোয়েলকে গ্রেফতারির দাবী তোলায় লালবাজারে তলবও করা হয় তাঁকে। তবে কোনও ভাবেই প্রতিবাদের পথ থেকে সরে আসেন নি তিনি। এবার ছাড়লেন পদও।

কিছুদিন আগেই আর জি করের ঘটনার বিরোধিতা করে ও রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন জহর রায়। এরপরই মনে করা হচ্ছিল যে সুখেন্দুশেখর রায়ও হয়ত ইস্তফা দিতে পারেন পদ থেকে। গতকাল, সোমবার গভীর রাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখে নিজের ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান।

আরও পড়ুনঃ সকাল সকাল বড় অ্যাকশনে ইডি, তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় হানা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার, কী ঘটল? 

তবে সুখেন্দুশেখর রায় ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ সম্পাদক পদ থেকে। এখনও সাংসদ রয়েছেন তিনি। তবে তিনি যেভাবে দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতে মনে করা হচ্ছে সাংসদ পদ থেকেও হয়ত খুব তাড়াতাড়ি ইস্তফা দিতে পারেন তিনি। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই মুখপত্রের সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রথম ধাপ হয়ত!  

RELATED Articles