রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এনডিএ জোটের তরফে। গতকাল, শনিবার এই ঘোষণা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। এটা যে বিজেপির একটা মাস্টারস্ট্রোক, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই নিয়ে রাজ্যপালকে খোঁচা দিতে ছাড়ে নি বাংলার শাসকদল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির মেয়াদ শেষ হলে নতুন রাজ্যপালের পদ পান জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছেন ধনখড়। রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাত নিয়ে বিতর্ক কিছু কম হয়নি। ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূলকে উত্যক্ত করার পুরস্কার হিসেবে ওঁকে উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে”।
শুধু মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর দলের সঙ্গেই নয়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। কখনও মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে, কখনও আবার বিধানসভার বিলে অনুমোদন না দেওয়ায় সরাসরি সঙ্ঘাত হয়েছে স্পিকারের সঙ্গে। সেই রাজ্যপালই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতলে রাজভবন থেকে বিদায় নেবেন।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই নানা বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করেছেন উনি। এমন অনেক বিষয়েই আমাদের দল ও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যা রাজ্যপাল পদে থেকে বলা যায় না। আশা করব বর্তমান রাজ্যপালের বদলে যিনিই বাংলার দায়িত্বে আসবেন, তিনি আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করে চলবেন”।
জানা গিয়েছে, আগামী ২১শে জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশের শেষে বিকেল চারটে নাগাদ কালীঘাটের বাসভবনে তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান ঠিক কী হতে চলেছে, তা স্থির হবে। এই বিষয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এ বিষয়ে আগামী ২১ জুলাই দলনেত্রী বৈঠক ডেকেছেন। তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না”।





