একের পর এক বিতর্কে বারবার নাম উঠে এসেছে রাজ্য সরকারের। সে যে কোনও ক্ষেত্রে নিয়োগ হোক বা খুন বা ভোট পরবর্তী হিংসা। এমন নানান বিতর্কে জর্জরিত রাজ্য সরকার। গত এক বছরে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের নানান ১২টিরও বেশি মামলার তদন্তভার দিয়েছে সিবিআইকে। শাসক দলকে বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে এই কারণে।
আর এবার সবথেকে বড় যে বিতর্কে পড়েছে রাজ্য, তা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তদন্ত চালায় পার্থর বাড়িতে। পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়ে ২১ কোটি টাকা, ২০টি মোবাইল, ও ৫০ লক্ষের বেশি টাকার গয়না। এরপরই আজ, শনিবার সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এই গ্রেফতারির পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আগেভাগেই দায় ঝেড়ে ফেলতে জানিয়েছেন যে এই টাকা উদ্ধারের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। আর এসবের মধ্যেও দলের অন্দরেই পার্থকে ছেঁটে ফেলার দাবী উঠল। তৃণমূলের একাংশের দাবী, এবার যেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাওয়াই কার্যকর করা হয়।
বলে রাখি, একুশের নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাদের থেকে নানান তথ্য পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি স্থির করেছিলেন যে কিছু পুরনো মুখকে সরিয়ে নতুন মুখকে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু সেই সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে তা হতে দেন নি। এর জেরে কোণঠাসা হন অভিষেক।
এবার তৃণমূলের দাবী, পার্থ চট্টোপাধ্যায় দায়িত্ব নিয়ে দলকে ডোবাচ্ছেন। এখন তারা চাইছেন যাতে অভিষেকের সেই দাওয়াই কার্যকর হয়। অনেকেই দাবী তুলেছেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে যাতে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়। আবার অনেকের দাবী পার্থবাবু যাতে নিজেই পদত্যাগ করেন। এবার এই ঘটনার মোড় কোনদিকে যায়, সেটাই দেখার।






