‘সিবিআইকে ম্যানেজ করে ফেলেছিল তৃণমূল’, এসএসসি মামলায় ইডির তদন্ত ও পার্থকে গ্রেফতারির ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

রাজ্যে এখন রীতিমতো হুলস্থূল কাণ্ড। ১৪ জায়গায় ইডির তল্লাশি, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ২১ কোটি টাকা উদ্ধার, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি, সব মিলিয়ে রাজ্য এখন উত্তাল। এর জেরে যে শাসক দল বেশ চাপের মুখে পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে হঠাৎ ইডি এসএসসি মামলা নিয়ে তৎপর কেন হল? তদন্ত তো ছিল সিবিআইয়ের যাতে। এই প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবী করে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন যে কয়েকজন সিবিআই আধিকারিকদের বলে-কয়ে তৃণমূল ম্যানেজ করে ফেলেছিল।

এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এত জিজ্ঞাসাবাদের পর এই জায়গায় পৌঁছেছে ইডি। যদি তদন্ত জারি থাকে তাহলে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে”।  

এদিন দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “অতীতে যাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা করা হত তিনিই হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়ে যেতেন। আমার মনে হয় ইডিএবার পুরো প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নেমেছে। বহু মানুষের নাম উঠে আসছে। আমার মনে হয় যে ফোন বা নথি পাওয়া গিয়েছে তল্লাশিতে তাতেই সমস্ত তথ্য লুকিয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষ কোর্টে গিয়েছিলেন। আদালত রায় দিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়েছে”।

অর্পিতা মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে দিলীপ বলেন, “এই ঘটনায় যে মহিলার নাম উঠে আসছে তৃণমূল বলছে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এটা সত্যি কথা নয়”। তিনি আরও বলেন, “এতদিন বলে কয়ে কয়েকজন সিবিআই অফিসারকে ম্যানেজ করে চলে যাচ্ছিল। ইডি এসে সব গড়বড় করে দিল। আমি চাইব ইডি যেন এর শেষ দেখে ছাড়ে”।

উল্লেখ্য, গতকালই ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন যে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এসএসসি মামলার তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। ইডি কেন তল্লাশি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তবে এবার দিলীপ ঘোষ বললেন যে কিছু সিবিআই আধিকারিককে ম্যানেজ করেছিল তৃণমূল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল যে রাজ্যের ১৪টি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাবে, তা ইডির কলকাতার শাখার আধিকারিকরাও জানতেন না। সবটাই করা হয়েছে অত্যন্ত গোপনে। দিল্লির ইডি-র অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই এই তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। আসলে, ইডি ভালোভাবেই জানে যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাই এই অভিযানের কথা জানতে পারলে, তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা নিশ্চয় করবেন। সেই কারণেই ইডি-র কলকাতার শাখাতেও এই তল্লাশির খবর জানানোর কোনও ঝুঁকি নেয় নি ইডি। আর না জানিয়ে তল্লাশি করার যে ফল হাতেনাতে পাওয়া গিয়েছে, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

আরও অন্যান্য খবর