আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নামে লজে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন, পুলিশের জালে তৃণমূল কর্মী

ক্যানিংয়ের লজে মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে সকাল থেকেই বেশ হইচই পড়েছে। এবার এই মৃত্যুকে ঘিরে সামনে এল এক বড় দাবী। মৃতার পরিবারের দাবী, আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে  মহিলাকে লজে নিয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তিনি আবার তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। অবশেষে পুলিশের জালে সেই অভিযুক্ত।

সকালেই প্রকাশ্যে আসে যে ক্যানিং বাজারের এক লজে এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আর এরপরই আচমকাই গায়েব হয়ে যান মহিলার সঙ্গী। তার খোঁজ চালাতে থাকে ক্যানিং থানার পুলিশ।   

লজের সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে, গতকাল শুক্রবার অভিযুক্তের সঙ্গে লজে এসেছিলেন এক মহিলা। কিছুক্ষণ পরই তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর সঙ্গীর নাম মহসিন মোল্লা। তিনি এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। মহিলার মৃত্যুর পর তিনি গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন। মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই মহসিন মোল্লার বিরুদ্ধে।

এই মৃত্যুকে ঘিরে মহিলার পরিবারের তরফে দাবী করা হয়, আবাস যোজনার তালিকায় তাদের নাম আসেনি। তালিকায় তাদের নাম তুলে তাদের ঘর পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মহসিন মোল্লা নামের তৃণমূল কর্মী। তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার নাম করেই মহিলাকে লজে ডেকেছিল তৃণমূল কর্মী, এমনটাই দাবী মৃতার মেয়ের। তিনি এও অভিযোগ করেন, “মায়ের গলায় চেন ছিল, হাতে বালা ছিল, আংটি ছিল। ৫০ হাজার টাকা ছিল। বাড়ির দলিল ছিল। সব নিয়ে পালিয়েছে ওই ব্যক্তি”।

পরিবারের এই অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজাখুঁজির পর নরেন্দ্রপুর থানা এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও ধৃতের স্ত্রীর দাবী, মহিলাকে তাঁর স্বামী ডেকে আনেন নি। মহিলা নিজেই লজে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবী, “আমার স্বামীর সঙ্গে ওই মহিলার দীর্ঘদিন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ওই মহিলা নিজের ইচ্ছাতেই গিয়েছিলেন। আবাসের ঘর দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়”। তবে স্বামী দোষী হলে যাতে শাস্তি হয় তার, এও বলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই…’, মমতার পুলিশকে ক্লিনচিট দিলেন হিরণ, আঙুল কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে! উপনির্বাচনের আগেই দল বদলাচ্ছেন বিজেপি নেতা?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে যত বড় নেতা হোক না কেন, অন্যায় করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে ধৃত ব্যক্তি কোনও নেতা নন। ব্লক লেভেলে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন”।

RELATED Articles