WB Election 2021: ভোটের মাঝেই নদিয়ায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল! কৌশানির অভিযোগে গ্রেফতার অভিযুক্ত

গতকাল থেকেই ভাইরাল হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও। সেই বিতর্ক মিটতে না মিটতেই ফের প্রকাশ্যে নদিয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল।

এবার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে শাসকদলের প্রাক্তন কাউন্সিলরকে মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো আইএনটিটিইউসি নেতা তপন কুণ্ডুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় কৃষ্ণনগর উত্তরের তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কৌশানি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে কৌশানী মুখোপাধ্যায় এই বিষয়টিকে শাসক শিবিরের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলতে নারাজ।  তাঁর জোরালো দাবি, দলের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। এটা দুষ্কৃতীদের কাজ। ঘটনায় ছুরির আঘাতে জখম হয়েছেন আরও এক তৃণমূল কর্মী। বিষয়টি নিয়ে এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত কৃষ্ণনগরের।

আরও পড়ুন – ‘গোড়ালির কাছে অ্যাঙ্কেল ভেঙে গেছে’, সেই পা দোলাচ্ছেন মমতা! দেখুন পর্দাফাঁস ভিডিও

উল্লেখ্য ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যার পর। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এলাকায়। উক্ত তৃণমূল পার্টি অফিসে আচমকাই ঢুকে পড়েন আইএনটিটিএইউসি নেতা তপন কুণ্ডু ও তাঁর দলবল। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর মলয় কুণ্ডুর উপর হামলা চলে বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচনের কাজকর্ম সেরে এসে অফিসে সবেমাত্র আমি চায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় হকার্স ইউনিয়নের নেতা তপন কুণ্ডু তার দলবল নিয়ে এসে অফিসের মধ্যে ঢুকে হামলা চালায়। আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। চাকু বের করে আমাকে খুনের চেষ্টা করে। আমার বোন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এরপরও আমাকে বাঁচাতে গিয়ে চাকুর আঘাত লাগে এক তৃণমূল কর্মীর হাতে। রক্তে ভেসে যায়।”

 

এই খবর কানে গিয়ে পৌঁছতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৌশানি মুখোপাধ্যায়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ”কে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী বা কে নাটক করছে, তা আমার জানার কথা নয়। তপন কুণ্ডু যদি তৃণমূলের লোকই হয়ে থাকেন, তিনি তাহলে কেন নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে আমাদের দলের প্রাক্তন কাউন্সিলরকে খুনের চেষ্টা করেছেন? কেনই বা নির্বাচনী কার্যালয়ের সমস্ত ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে দিয়ে অফিসে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর চালিয়েছেন? আর যাই হোক, তাঁকে আমি দলের লোক বলে মানতে রাজি নই।পুলিশের কাছে বলেছি, নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন কোনওভাবেই বাইরে ছাড়া না হয়।”
ঘটনার পর কৌশানি মুখোপাধ্যায় কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই তপন কুণ্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

RELATED Articles