অফিস যাওয়ার জন্য বা স্কুল-কলেজে পৌঁছনোর জন্য অনেকেই ভরসা রাখেন লোকাল ট্রেনের উপর। ভোর থেকে শুরু হয় সেই ছোটাছুটি। ট্রেনে চেপে সময়মতো পৌঁছনোই যেন রোজকার লড়াইয়ের একটা বড় অংশ। কিন্তু মাঝেমধ্যে সেই ট্রেনই বিপাকে ফেলে দেয় হাজার হাজার মানুষকে। আজ দুপুরে ঠিক এমনটাই ঘটল দমদম স্টেশনের কাছে, যখন হঠাৎ থেমে গেল বনগাঁ লোকাল ট্রেন। তখনও কেউ ভাবেননি, সামনে অপেক্ষা করছে একটা ভয় ধরানো ঘটনা।
ট্রেন যখন দমদম স্টেশনের দিকে এগোচ্ছে, তখন কেউ হয়তো মোবাইলে খবর পড়ছিলেন, কেউ চোখ বন্ধ করে একটা ঘুম দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কেউ বা বাচ্চাকে নিয়ে সামলাচ্ছিলেন সিটের কোণ। আচমকা একটা ঝাঁকুনি, তারপর আরও একটা। কিছু বোঝার আগেই যাত্রীরা দেখেন ট্রেন থেমে গেছে। কেউ জানলা দিয়ে মুখ বার করে দেখলেন, কেউ দরজা খুলে নেমে পড়লেন নিচে। এই হঠাৎ থেমে যাওয়া মুহূর্তেই শুরু হল গুঞ্জন—‘কি হয়েছে?’ কেউ বলল, ‘লাইনচ্যুতি’। কেউ বলল, ‘দুর্ঘটনা’।
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, বনগাঁ লোকাল ট্রেনটি সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে বনগাঁ থেকে ছাড়ে। দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ ট্রেনটি যখন দমদম স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে, তখন হঠাৎ তার পিছনের একটি বগির দু’টি চাকা লাইন থেকে নেমে যায়। ফলে ট্রেনের একটি অংশ ট্র্যাকের বাইরে সরে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই গতি স্তব্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় কোনও বড়সড় শব্দ বা ধাক্কা না থাকলেও যাত্রীরা ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় নেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। দ্রুত রেলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার ও ট্র্যাক ঠিক করার কাজ শুরু করেন। তবে এই ঘটনায় শিয়ালদহ শাখার পরিষেবা কিছুটা সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। অফিস টাইমে এমন ঘটনার ফলে যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েন। অনেককে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে হয়, কেউ বা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি করেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ India: সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে এলেন পূর্ণম, ২০ দিনের অপেক্ষার অবসানে চোখের জলে ভেসে উঠল পরিবার
সৌভাগ্যবশত এই দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ভালোই। যাত্রীদের অনেকেই বলেন, ‘ভেবেছিলাম বড় কিছু ঘটে গেছে, পরে জানলাম লাইনচ্যুতি।’ এমন ঘটনা নতুন নয় — এর আগে ২০২৩ সালেও দমদমে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছিল। প্রশ্ন উঠছে, বারবার কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে একই এলাকায়? রেল দপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং যাত্রীদের সব রকম সাহায্য দিতে হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে।





