ভিতরে ভিতরে যখন মনখারাপ জমতে থাকে, চারপাশের লোকজন হয়তো বুঝতেও পারেন না। হাসিমুখের আড়ালে অনেক সময় চাপা থাকে শত অনুতাপ, হাহাকার। একেকটা সম্পর্ক যখন ভেঙে যায়, তার প্রভাব পড়ে একজন মানুষের জীবনের পরতে পরতে। কখনও সেই চাপ এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে থেকে আর ফেরার রাস্তা থাকে না।
আজকের প্রজন্ম অনেক কিছু অর্জন করছে ঠিকই, কিন্তু মনের ভিতরে যেন একটা ফাঁকা জায়গা থেকে যাচ্ছে। চাকরি আছে, বন্ধু আছে, অথচ নিজের মানুষটিকে যেন খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনই এক তরুণ—প্রীতম ওরফে সৃঞ্জয়। আইটি সেক্টরে চাকরি করতেন, প্রতিভাবান বলেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বাইরের সাফল্যের আড়ালে কেমন মানসিক যন্ত্রণা চলছিল, তা বোঝার সুযোগ হয়নি কারও।
সম্প্রতি প্রীতমের মৃত্যু ঘিরে নানা তথ্য উঠে এসেছে। ‘আমি ঝুমা’ নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে করা পোস্টে বলা হয়, প্রীতম দীর্ঘদিন ধরে এক তরুণীর সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। যাঁর নাম ঝুমা ঘোষের কথায়, ‘সৃজনী’। ঝুমার দাবি, প্রীতমের মা রিঙ্কু মজুমদার নিজে ওই তরুণীকে ছেলের বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তরুণী সেই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। উল্টে তিনি নাকি প্রীতমের উপর মানসিক ও আর্থিক চাপে ফেলতেন।
ঝুমা ঘোষ আরও জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের দিন সৃজনী সারাটা দিন রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গেই ছিলেন। এমনকি প্রীতমের বাড়িতে পার্টিও হয়েছিল, যেখানে ছিলেন ওই তরুণী। এরপরেই ফের প্রশ্ন উঠছে—মৃত্যুর পেছনে শুধুই মানসিক চাপ, না কি কোনও অন্য কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে? দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, প্রীতম কিছুদিন ধরেই কাউন্সেলিং নিচ্ছিলেন, ওষুধও খাচ্ছিলেন। ড্রাগ ওভারডোজের দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ Breaking news : দমদম স্টেশনের মুখে বিপদ! চলন্ত বনগাঁ লোকালের বগি লাইনচ্যুত, প্রাণে বাঁচলেন শতাধিক যাত্রী!
মঙ্গলবার সকালে প্রীতমের বান্ধবীর ফোন পেয়ে রিঙ্কু ছেলের ফ্ল্যাটে ছুটে যান। আর তখনই ছেলের নিথর দেহ দেখতে পান তিনি। মা হিসেবে রিঙ্কুর বক্তব্য—‘‘আমি বুঝতাম ওর মনটা ভালো নেই।’’ অন্যদিকে দিলীপ ঘোষও বলেন, “পুত্রসুখ হল না, পুত্রশোক হল।” তবে এত কিছু সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের পূর্ণ রিপোর্টই হয়তো বলে দেবে—এ কেবলই মানসিক যন্ত্রণা, না কি তার থেকেও বেশি কিছু লুকিয়ে রয়েছে এই মৃত্যুতে। আপাতত, এক গোলাপি জামা পরিহিতা, এক ফেসবুক পোস্ট আর এক শোকস্তব্ধ পরিবারের অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নের স্রোত।





