গ্রামে নবান্ন উৎসব চলছিল হইহই করে। কিন্তু সেই উৎসবের আনন্দ যে এমনভাবে বিষাদে বদলে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করেন নি। নবান্ন উৎসব চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় দুই শিশুর। দু’জনেরই বয়স তিন বছর। দুই শিশুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার মূলগ্রামে। মৃত শিশুদের নাম ওঙ্কার ঘোষ ও সৌম্য ঘোষ। তারা সম্পর্কে মামাতো-পিসতুতো ভাই।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
গতকাল, রবিবার মূলগ্রামে নবান্ন উৎসব শুরু হয়েছে। এই গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ ঘোষের বোন সুস্মিতার সঙ্গে মন্তেশ্বর থানার খাঁপুকুর গ্রামের বাসিন্দা প্রহ্লাদের বিয়ে হয়েছে। সুস্মিতার স্বামী ভিনরাজ্যের শ্রমিক। বর্তমানে বাইরের রাজ্যে রয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গতকাল সকালেই সুস্মিতা বাপের বাড়ি মূলগ্রামে এসেছিলেন নবান্ন উৎসবের জন্য। সঙ্গে এনেছিলেন ছেলে ওঙ্কারকে। মামাবাড়ি এসে ওঙ্কার তার মামার ছেলে সৌম্যর সঙ্গে খেলায় মত্ত হয়ে যায়। রাজেশবাবুর বাড়ির পিছনেই রয়েছে একটি ডোবা। দুই শিশু যে কখন সেইদিকে চলে যায়, তা কেউ খেয়াল করেন নি। বেশ কিছুক্ষণ পর তাদের খবর না মেলায় সকলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
চারদিকে খুঁজতে খুঁজতে একজন দেখেন ডোবায় এক শিশু ভাসছে। প্রতিবেশীরা সঙ্গে সঙ্গে ডোবায় নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। তড়িঘড়ি তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাহাকার পড়ে যায় পরিবারে। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রামেই। এমন মর্মান্তিক ঘটনার জেরে নবান্ন উৎসবের জন্য যে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল, তাও বাতিল করে দেন গ্রামবাসীরা।





