বিয়ে হয়েছে বছর আটেক আগে কিন্তু কোনও সন্তান হয়নি। তার উপর স্বামীও ব্যস্ত নিয়ে কাজ নিয়ে। সময় দিতেন না তিনি। নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরেছিল বালির কর্মকার বাড়ির বড় বউকে। ঠিক তখনই বাড়িতে কাজ করতে আসা রাজমিস্ত্রির মিষ্টি কথায় গলে গিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বালির কর্মকার বাড়ির বড় বউ অনন্যা। আসানসোল থেকে আটক হওয়ার পর হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানায় এমনটাই জানালেন তিনি।
অন্যদিকে, সে বাড়ির ছোটো বউ রিয়ার বিয়ে হয় দশ বছর আগে। একটি সাত বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে তাঁর। তাঁরও অভিযোগ, তাঁর স্বামী তাঁকে সময় দিতেন না। স্বামীসঙ্গের অভাবেই অন্য সম্পর্কে জড়ান দুই জা, এমনটাই পুলিশকে জানিয়েছেন তারা।
দুই বউ-ই জানান যে সংসারের সেই গতানুগতিক জীবন ক্রমেই একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছিল তাদের কাছে। এমন অবস্থায় তাদের পরিচয় হয় তাদের বাড়িতে কাজ করতে আসা দুই রাজমিস্ত্রি শেখর রায় ও শুভজিত দাসের সঙ্গে। মুর্শিদাবাদের সুতির বাসিন্দা তারা। তাদের মিষ্টভাষী স্বভাব মন জয় করে নেয় রিয়া ও অনন্যার। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। এরপরই প্রেমিকদের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেই গত ১৫ই ডিসেম্বর শপিং করতে যাওয়ার নাম করে পালান দুই গৃহবধূ।
প্রথমে সুতি হয়ে প্রেমিকদের সঙ্গে মুম্বই পালান তারা। কিন্তু টাকাপয়সার ঘাটতি দেখা দিতেই ফের ফিরে আসেন এ রাজ্যে। আর ফেরার পথে গতকাল আসানসোল স্টেশনে পুলিশের জালে ধরা পড়েন দুই রাজমিস্ত্রি প্রেমিক-সহ দুই জা। তবে শুধু কী একঘেয়েমি জীবন থেকে মুক্তি পেতে নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়েই মুম্বই পালিয়েছিলেন তারা নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল? তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কী এমন ঘটল যে রিয়া ও অনন্যাকে রাজমিস্ত্রিদের হাত ধরে পালাতে হল, তদন্ত করছে পুলিশ।
এদিকে, বাড়ির ছেলে প্রভাত কর্মকার জানান যে কাজের জন্য তাদের দুই ভাইকে প্রায় রোজই দেরি করে ফিরতে হত। কিন্তু তাদের দুই বউয়ের কথায় কখনও সন্দেহ হয়নি যে তারা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছে। তবে অনন্যার কাছে নতুন মোবাইল দেখে খটকা লাগে। পরিবারের লোকেরা জানাচ্ছে যে দুই পুত্রবধূই ইদানিং দীর্ঘক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকত। কিন্তু তলায় তলায় যে তারা এত গভীর সম্পর্কে জড়িয়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পায়নি।






