এক সন্তানের জীবনে মা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোধ হয় বলে বোঝানো সম্ভব নয়। মায়ের কারণেই তো আমরা এই পৃথিবীর আলো দেখি। কিন্তু সেই মা-কেই যদি কেউ অবহেলা করে, নিজের বোঝা মনে করে, তাহলে সেরকম দুর্ভাগা সন্তান বোধ হয় আর হয় না।
এমনই এক অমানবিক ঘটনার কথা সামনে এল সম্প্রতি। বৃদ্ধা মা-কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেনা এলাকার ফুটপাতে ফেলে রেখে গেল দুই গুণধর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে ভাটপাড়ায়।
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম উষারানি প্রামাণিক। চুঁচুড়ার ঘটকপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে ভাটপাড়ার রথতলায় ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীরাই উদ্ধার করেন ওই বৃদ্ধাকে।
বৃদ্ধার কাছ থেকেই জানা যায় যে উষারানিদেবীর স্বামী সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। তাঁর দুই ছেলে রয়েছে। নাম টিঙ্কু প্রামাণিক এবং মনোজ প্রামাণিক। ১৯৭৮ সালে বৃদ্ধার স্বামী মারা যান। তারপর থেকে অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে বড় করেছেন তিনি। এখন দুই ছেলেই মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু বৃদ্ধা মা-কে দেখেন না দুই ছেলের কেউই। বৃদ্ধা মা এখন তাদের বোঝা। মা-কে দেখভাল করার বদলে তাঁর উপর নির্যাতন চালাত দুই ছেলে, এমনটাই জানান ওই বৃদ্ধা। দু’দিন আগে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভাটপাড়ার রথতলা রাজলক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৃদ্ধার দুই ছেলের বিরুদ্ধে।
এই বিষয়টি জানার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করেন ওই বৃদ্ধাকে। তারাই ভাটপাড়া থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ওই বৃদ্ধাকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এক বাসিন্দা এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “গত দু’দিন ধরেই ওই বৃদ্ধা ফুটপাতে পড়েছিলেন। কথা বলে জানতে পারি, দুই ছেলে বৃদ্ধাকে ফুটপাথে ফেলে রেখে গিয়েছে”।
বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘”আমার দুই ছেলে আমাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এখানে ফেলে রেখে পালিয়েছে”। পুলিশ এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বৃদ্ধার দুই ছেলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।





