জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাবে পৃথিবী ক্রমাগত হাপিয়ে উঠেছে। পরিবেশবিদদের মতে, যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। তাই, প্রকৃতিকে বাঁচাতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গাছ লাগানোর নানা কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে। নগরায়নের জেরে রাজ্য, দেশ ও বিশ্বজুড়ে বৃক্ষ নিধনের হার বাড়ছে, যা রোধ করা জরুরি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সবুজায়নের বার্তা ছড়াতে সাইকেল নিয়ে সাইবেরিয়ার পথে পাড়ি দিয়েছেন বাংলার উজ্জ্বল পাল।
উজ্জ্বল পাল বীরভূমের সিউড়িতে বসবাস করেন। সেখানে তিনি চাষবাস করেন। তার দৈনন্দিন খাবার নিজের চাষ করা খাদ্য থেকেই সংগ্রহ করেন। প্রায়শই সিদ্ধ খাবার খেয়েই তার জীবন কাটে। তিনি জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন, যা তার নিজের প্রয়োজনের পর বাকি ফসল বিক্রি করে দেন। এই টাকা দিয়ে তিনি সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগান। একইসঙ্গে বন দফতরের সহযোগিতায় প্রাণী উদ্ধারের কাজেও যুক্ত থাকেন। এই ভাবেই উজ্জ্বল পাল তার নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশ্বজুড়ে সাইকেল ভ্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সারা পৃথিবী জুড়ে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ইতিমধ্যে ২০টি দেশ সাইকেলে ভ্রমণ করেছেন তিনি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও খেলাধুলার ক্লাবে গিয়ে তিনি এই বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। দেশ-বিদেশে এই কাজ করছেন তিনি, এমনকি সাইকেলে করে কিলিমাঞ্জারো অভিযানে সাফল্য অর্জন করেছেন। উজ্জ্বলবাবুর একটাই বার্তা, “জীবনে অন্তত একটি গাছ লাগান, তার পরিচর্যা করুন ও বড় করে তুলুন।”
রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ থেকে তিনি যাত্রা শুরু করবেন, সাইকেলে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো হয়ে কাজাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং জাপানে পৌঁছাবেন। টোকিও থেকে তিনি দেশে ফিরবেন। এই যাত্রার মোট সময়কাল ৯০ দিন। তার উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মানুষকে একত্রিত করে তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ২০১১ সালে বাংলাদেশ দিয়ে তার এই ভ্রমণ শুরু হয়, সোনারপুর আরোহীর সদস্যদের সঙ্গে প্রথম অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেন।






