বাড়ি ফিরতেই মেয়েকে দেখে মা-বাবা শিউড়ে ওঠে, সারা হাতে ক্ষত। মেয়ে বলল, ‘সিনিয়র দিদিরা হাতে সেফটিপিন দিয়ে নাম লিখতে বাধ্য করেছে”। হ্যাঁ, এমনই এক অমানবিক পরিস্থিতির স্বীকার হল এক নাবালিকা। তার পরিবারের অভিযোগ, সরকারী হোমে থাকাকালীন তাদের মেয়ের উপর নৃশংস অত্যাচার করেছে ওই হোমেরই সিনিয়র আশ্রিতারা। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার লিলুয়ার একটি সরকারী হোমে। জানা গিয়েছে, গত ১৫ই ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে মতের অমিল হওয়ায়, বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় চুঁচুড়ার ওই নাবালিকা। সেদিন রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে উদ্ধার করে রেল পুলিশ। এরপর চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওাহ্য ওই নাবালিকাকে। তারাই তাকে লিলুয়ার ওই সরকারী হোমে পাঠায়। হোম থেকে নাবালিকার বাড়িতে খবর পাঠানো হলে, তাকে নিতে আসে তার মা-বাবা। কিন্তু হোমের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ১৪ দিন পর তাদের মেয়েকে বাড়ি পাঠাবে হোম কর্তৃপক্ষ।
এরপর ৪ তারিখ মেয়ে বাড়ি ফিরতেই তার বিধ্বস্ত অবস্থা চোখে পড়ে মা-বাবার। দেখেন মেয়ের হাতে অজস্র ক্ষত। খোদাই করে অন্য মেয়েদের নাম লেখা তার হাতে। কান্নায় ভেঙে পড়ে নাবালিকা। জানায়, হোমের সিনিয়র আবাসিকরা তাকে এই কাজ করতে বাধ্য করেছে। সেফটিপিন দিয়ে হাতে খোদাই করানোর পাশাপাশি তাকে শারীরিক অত্যাচারও করেছে সিনিয়র দিদিরা। মেয়ের মুখে এই কথা শুনেই বেলুড় থানায় অভিযোগ জানায় নাবালিকার পরিবার।
কিন্তু এবার এখানে কতগুলো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মেয়েটিকে ১৪ দিন পর কেন বাড়ি পাঠানোর কথা বলল হোম কর্তৃপক্ষ? তাছাড়া, নাবালিকার বাবা-মাও বা কেন ১৪ দিন তাদের মেয়েকে হোমে রাখতে রাজী হলেন? এর মধ্যে কী কোনও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে? নাবালিকার উপর যে তাদেরই আবাসিকের সিনিয়র মেয়েরা এরূপ অত্যাচার করছে, তা কী হোম কর্তৃপক্ষ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি? এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী, হোম কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজী নয়। এমনকি, তারা এটা পর্যন্ত মনে করতে পারছে না যে এই নাবালিকা তাদের হোমে আদৌ কোনওদিন ছিল কী না? তবে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হবে।





