অপারেশন থিয়েটারে চলত মদের পার্টি, জোর করে ডাকা হত তরুণী ইন্টার্নদের, সেই ভিডিও তুলে রাখাই কাল হল ‘তিলোত্তমা’র? সিবিআইয়ের হাতে বড় প্রমাণ!

আর জি কর কাণ্ডে নিয়ে নানান তথ্য সামনে আসছে অহরহ। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে যে নিজের আখড়া বানিয়ে রেখেছিলেন ধৃত সন্দীপ ঘোষ, তা বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে চলত মদ-মাংসের পার্টি। ডাকা হত মেয়েদেরও। আর সেই ভিডিওই করে রেখেছিলেন নির্যাতিতা। সেই কারণেই কী প্রাণ খোয়াতে হল তাঁকে? সিবিআইয়ের হাতে এসেছে বড় প্রমাণ।

সিবিআই সূত্রে খবর, নির্যাতিতাকে কোনও কারণে ভয় দেখানো হচ্ছিল। তিনি কী তাহলে এমন কোনও গোপন কথা জেনে ফেলেছিলেন যা সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিপদে ফেলতে পারত, সেই কারণেই কী তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হল, সিবিআইয়ের অবশ্য এমনটাই দাবী। সন্দীপ ঘোষও জেরায় স্বীকার করেছেন যে অপারেশন থিয়েটারে পার্টি চলত।

জানা গিয়েছে, এই পার্টিতে জোর করে ডাকা হত তরুণী ইন্টার্ন ও পিজিটি চিকিৎসকদের। আর তারা যদি পার্টিতে না যেতেন, তাহলে তাদের উপর শুরু হত মানসিক অত্যাচার। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি থেকে ডিউটির সময় বাড়িয়ে দেওয়া, এমন নানান অত্যাচার চলত তাদের উপর। কেউ যদি শরীর খারাপের জন্য ডিউটি না করতে চাইলে তাঁকে ভয়ও দেখাত সন্দীপ বাহিনী, এমনটাই অভিযোগ। সেই কারণেই অনেকে বাধ্য হয়ে আপোষ করে নিতে বাধ্য হত।

সিবিআই সূত্রে খবর, কয়েকমাস আগে এরকমই একদিন অপারেশন থিয়েটারে পার্টি চলছিল সন্দীপ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের। সেদিন নাইট ডিউটি ছিল তিলোত্তমার। সেদিন তিনি লুকিয়ে অপারেশন থিয়েটারের সেই মোচ্ছবের ভিডিও তুলেছিলেন বলে খবর। আর সেই খবর কোনওভাবে পৌঁছয় সন্দীপের কানে। এরপর থেকেই তিলোত্তমাকে ভয় দেখ্যে সেই ভিডিও মুছে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে খবর। তবে তিনি জানিয়ে দেন তা তিনি করবেন না আর নির্দিষ্ট ফোরামে এই নিয়ে অভিযোগও করবেন তিনি। সিবিআইয়ের দাবী, এরপরই তিলোত্তমাকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়।

সন্দীপ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিলোত্তমার স্মার্টফোনটি হাতিয়ে নেওয়া। আর সেই কারণেই সন্দীপের ডানহাত ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে আনা হয় ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে। এমনকি দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে তাঁকে আনতে গাড়িও পাঠিয়েছিলেন সন্দীপ, এমনটাই খবর। সন্দীপের কল লিস্ট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দুন অর্থাৎ ৯ আগস্ট খুব ভোরে ওই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ফোন করেছিলেন সন্দীপ ঘোষ।

জানা যাচ্ছে, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এলে তাঁকে নিয়ে সন্দীপ যান অকুস্থলে। সেখান থেকে তিলোত্তমার স্মার্টফোনটি নিয়ে নিজের চেম্বারে যান সন্দীপ। তারপর সেখানে কম্পিউটারের সঙ্গে ফোন যুক্ত করে সেই অপারেশন থিয়েটারের ভিডিওটি মুছে দেওয়া হয়। এমনকি তিলোত্তমার ফোনে থাকা হাসপাতালের নানান তথ্যও মুছে ফেলা হয় বলে খবর।

আরও পড়ুনঃ ‘আর জি কর করে দেব…’, রাতে কর্তব্যরত নার্সকে কুকথা, হেনস্থা সরকারি হাসপাতালে, চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি, ফের উঠছে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন!

এমনকি, সেই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজের কিছু অংশও ব্লক করিয়ে দেন সন্দীপ। তবে  জানা যাচ্ছে, তিলোত্তমার স্মার্টফোন থেকে মুছে দেওয়া অপারেশন থিয়েটারের সেই ভিডিও ফরেনসিক টিমের সাহায্যে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে সিবিআই। তাদের দাবী, সন্দীপ বুঝতেই পারেন নি, এই ঘটনার জল এতদূর গড়াবে। সেই ভিডিও সামনে আসা মানে যে এই তদন্তের এক অন্যদিক খুলে যাওয়া, তা বলাই বাহুল্য। সেই ভিডিওর মাধ্যমে তিলোত্তমা খুনের আসল দোষীরা ধরা পড়বেন বলেই আশা সিবিআইয়ের।

RELATED Articles