‘আর জি কর করে দেব…’, রাতে কর্তব্যরত নার্সকে কুকথা, হেনস্থা সরকারি হাসপাতালে, চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি, ফের উঠছে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন!

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্য উত্তাল। রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে করা হচ্ছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। সকল স্তরের মানুষ পথে নেমেছেন ন্যায় বিচারের দাবীতে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বেশ কয়েক দফা দাবী দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে ফের এক সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।

রাতে কর্তব্যরত এক নার্সকে দেওয়া হল হুমকি। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, গতকাল, শনিবার রাতে আজগার আলি নামের এক ব্যক্তি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর আত্মীয়রাও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, রোগীকে ভর্তির পর তাঁর আত্মীয়রা বারবার চিকিৎসক, নার্সদের চেয়ার টেনে টেনে বসার চেষ্টা করছিলেন।

এই কাজে বাধা দেন এক নার্স। চেয়ার এভাবে টানাটানি করতে বারণ করেন তিনি। আর এর জেরেই রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে বাঁধে বচসা। রোগীর পরিজনরা ওই নার্সকে কুকথা বলতে থাকেন বলে অভিযোগ। তাঁকে নানান ভাবে হেনস্থা করা হয়। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের মতো তাঁর অবস্থা করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি, প্রভাব খাটিয়ে ওই নার্সের চাকরি খেয়ে নেবেন বলেও হুমকি দেন রোগীর পরিবারের লোকজন।

এই নিয়ে শুরু হয় তুমুল বচসা। খবর দেওয়া হয় চাঁচল থানায়। হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশের বিশাল বাহিনী। হাসপাতালের তরফে অভিযোগ পেয়ে রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে একজনকে আটক করে পুলিশ। এমন ঘটনায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন ওই নার্স। আতঙ্কিত হাসপাতালের বাকি নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রক্ষকই যখন ভক্ষক! হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, অবশেষে গ্রেফতার খোদ পুলিশকর্মী

বলে রাখি, আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে দীর্ঘ ৪৩ দিন ধরে কর্মবিরতিতে ছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। গতকাল, শনিবার আংশিক কর্মবিরতি তুলে জরুরি পরিষেবায় যোগ দিয়েছেন তারা। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকদের ন্যায় বিচার ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দাবীতে তাদের আন্দোলন যে এখনও চলছে, তা তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ফের সরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটায় যে হাসপাতালে নিরাপত্তার প্রশ্ন ফের একবার উঠল, তা বলাই বাহুল্য!

RELATED Articles