DA : ডিএ নিয়ে বড় জট! হাতে দু’দিন, নির্দেশিকা জারি হয়নি এখনও, কবে মিলবে বকেয়া টাকা?

আর্থিক বছর গড়িয়ে গেলেও ডিএ (DA) সংক্রান্ত প্রশ্নে এখনও নিশ্চিত নন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। হাতে রয়েছে মাত্র দু’দিন। তার মধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মাফিক ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা শেষ হবে। কিন্তু সেই মোতাবেক কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও পর্যন্ত জারি হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটছে না রাজ্য সরকারি কর্মীদের মনে। বকেয়া ডিএ মিলবে তো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে নবান্নের অলিন্দে।

সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ২০২৪ সালের ২৭ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। সেই সঙ্গে ১৫ জুনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি, এমনকি নবান্ন বা অর্থ দফতরের তরফেও কোনও দিশা মেলেনি। ফলে নির্দেশ মেনে কর্মীদের বকেয়া ডিএ আদৌ মিলবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দাখিল করেছে, যাতে এই নির্দেশ কিছুটা শিথিল করা যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে অবকাশে থাকায় সেই আবেদন এখনও শুনানির জন্য ওঠেনি। একই সঙ্গে আলোচনা চলছে যে, ২৫ শতাংশ বকেয়ার ৮০ শতাংশ কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে বাকি ২০ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটাবে কি না, তা নিয়ে সরকার এখন আইনি পরামর্শ নিচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। যদি ৮০ শতাংশ দেওয়া হয়, তা হলেও প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে রাজ্য সরকার। অনেকের মতে, এই অর্থ ডিএ মেটাতেই নেওয়া হয়েছে। যদিও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এই দাবিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ BJP: বঙ্গ বিজেপির সভাপতি পদে রদবদল? সুকান্ত, অগ্নিমিত্রা না শমীক—কে বসবেন শীর্ষে?

ভাস্কর ঘোষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফেসবুকে রাজ্যের আর্থিক স্থিতি ‘ভাল’ বলেছিলেন। তাহলে হঠাৎ এত বড় অঙ্কের ঋণ কেন? তাঁর মতে, সরকারের কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেই বলেই জল্পনা বাড়ছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্দেশিকা জারি না হলে তাঁরা আদালত অবমাননার মামলা করবেন এবং বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। এখন দেখার, হাতে থাকা দু’দিনে আদৌ রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডিএ সংক্রান্ত জট কাটাতে পারে কি না। সমস্ত নজর আপাতত নবান্নের দিকে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles