রাজ্য এখন নানান ধরণের দুর্নীতিতে বিদ্ধ হয়ে রয়েছে। এমন আবহে এবার ফের একবার বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন বুদ্ধিজীবীরা। আজ, শনিবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি নিয়ে মেয়ো রোডে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের জায়গায় উপস্থিত হন বুদ্ধিজীবীরা। এদিন উপস্থিত ছিলেন বাম সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, মানসী সিনহা, চন্দন সেন সহ আরও অনেকেই। সেখান থেকেই তারা ফের একবার বাংলায় পরিবর্তন ডাক দিলেন।
এদিন বুদ্ধিজীবীরাকেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআইকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, “ইডি এবং সিবিআইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু, এদের সম্পর্কে কখনও কখনও আমাদের একটি নার্ভাস লাগে। তখন বুঝতে পারি যে সেটিং হয়ে গিয়েছে। আসল অপরাধীদের এড়িয়ে চুনোপুঁটিদের ধরা হয়। কিন্তু, তা সত্ত্বও যে ব্যাপারটা ঘটেছে, যতটুকু উন্মোচন হয়েছে, তার জন্য অবশ্যই আদালত এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অভিনন্দন জানাই। তারা সত্যের একটি আংশিক চেহারা আমাদের সামনে উন্মোচন করেছে। তবে লড়াইটা এখনও অনেক বাকি। এখানে কোনও ব্যক্তি কিংবা চরিত্রের ব্যাপার নয়, একটি প্রশাসন, একটি দল এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। যারা গত ১০ বছর ধরে পশ্চিমবাংলাকে শাসন করছে। তাদের মজ্জায় মজ্জায় দুর্নীতির ঘুঁণ ধরে গিয়েছে। সেটা সকলের কাছে স্পষ্ট”।
শুধু তাই-ই নয়, এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়েই তাঁকে তোপ দাগেন পবিত্র সরকার। বলেন, “ছেলেমেয়েদের প্রলোভিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের দুর্নীতির শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে। গ্রুপ ডি, প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি এমনকী কলেজ সার্ভিসেও দুর্নীতি হয়েছে। অজস্র দুর্নীতি হয়েছে। তবে এই দুর্নীতি কেবল শিক্ষাক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, দমকল কর্মী নিয়োগ, খাদ্য সরবরাহ কর্মী নিয়োগেও কাটমানি, তোলাবাজি চলছে। পশ্চিমবঙ্গে এর একটা বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এটা কোনও একজন লোকের কাজ নয়। অসাধু কর্মচারিদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি হচ্ছে”
এদিন তিনি আরও বলেন, “বাঙালির কাছে আমাদের প্রশ্ন। যারা ভেবেছিলেন এই দলকে সরকারে আনলেই উই উইল লিভ হ্যাপিলি এভার আফটার। তাঁদেরকেই বলছি পশ্চিমবাংলাকে আবার একটি পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই, আসতে আসতে বিশাল পরিবর্তন আসবে। আর এই রাজনৈতিক দলকে ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপে নিক্ষেপ করতে পারব”।
এদিন উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্যও। তিনি এদিন বলেন, “নাগরিক সমাজ, শিক্ষিত সচেতন মানুষ এতদিন নীরব ছিলেন। আইনজীবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলা উন্মোচিত হয়েছে”।






